ঘুম থেকে উঠেই হাত-পা অসাড়? ডাবল ভিশন, মাথা ঘোরা হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষণ! কী এই ‘ওয়েক-আপ স্ট্রোক’?
নিজস্ব সংবাদদাতা
৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ : ৪৬
শেয়ার করুন
1
11
রাতে সুস্থ শরীরেই ঘুমোতে গেলেন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, শরীরের একটা দিক ঠিকমতো কাজ করছে না। কখনও হাত-পায়ে দুর্বলতা, কখনও কথা জড়িয়ে যাওয়া, আবার কখনও চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা চারপাশের সব কিছু দুটো করে দেখার সমস্যা।
2
11
অনেকেই এই ধরনের উপসর্গকে ঘুমের ঘোর, ক্লান্তি কিংবা সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এমন লক্ষণ হতে পারে স্ট্রোকের সতর্কবার্তা। বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক হলে অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না কখন সমস্যা শুরু হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ধরনের ঘটনাকে বলা হয় ‘ওয়েক-আপ স্ট্রোক’ (Wake-up Stroke)।
3
11
সাধারণত মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের কোনও রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। মস্তিষ্কের যে অংশে রক্ত পৌঁছতে পারে না, সেই অংশের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। ঘুমের মধ্যে এই ঘটনা ঘটলে রোগী সাধারণত কোনও উপসর্গ বুঝতে পারেন না। কী কী লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
4
11
হাত-পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা: ঘুম থেকে উঠে শরীরের একদিকের হাত বা পা তুলতে অসুবিধা হতে পারে। কখনও মুখের একদিক বেঁকে যেতে পারে কিংবা অসাড় হয়ে যেতে পারে।
5
11
চোখে ঝাপসা বা দুটো দেখা: হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা কিংবা একই জিনিস দুটো করে দেখা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
6
11
3. মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো: হঠাৎ মাথা ঘোরা, সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারা, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো বা শরীরের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
7
11
কথা জড়িয়ে যাওয়া: কথা বলার সময় শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে না পারা, অন্যের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া কিংবা সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়াও সতর্কবার্তা।
8
11
5. হঠাৎ বিভ্রান্তি: কোনও কিছু বুঝতে অসুবিধা, অস্বাভাবিক আচরণ কিংবা আচমকা বিভ্রান্ত হয়ে পড়াও স্ট্রোকের উপসর্গ হতে পারে।
9
11
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর এই ধরনের কোনও উপসর্গ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে। পরিবারের সদস্যদের মনে রাখতে হবে, রোগীকে শেষ কখন সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। সাধারণত ঘুমোতে যাওয়ার আগের সময়টি চিকিৎসকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে কাজ করে।
10
11
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। মস্তিষ্কের স্ক্যান ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকরা স্ট্রোকের ধরন এবং চিকিৎসার উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেন। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধা সরানোর ওষুধ অথবা বিশেষ পদ্ধতিতে রক্তনালির জমাট সরানোর চিকিৎসা করা সম্ভব। ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক হয়েছে বলে চিকিৎসার সুযোগ শেষ হয়ে গিয়েছে, এমন ধারণা একেবারেই ঠিক নয়।
11
11
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, স্থূলতা এবং অনিয়মিত জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা জরুরি।