পশ্চিম এশিয়ায় সম্প্রতি উত্তেজনা তুঙ্গে। এই আবহে নতুন করে আলোচনায় এসেছে উন্নতমানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্লু স্প্যারো। এই অস্ত্র ব্যবহার করেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
2
11
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি বড় হামলায় নিহত হন। হামলাটি হয়েছিল ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি সরকারি কমপাউন্ডে। সেখানে সে সময় দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক চলছিল বলে জানা গিয়েছে। হামলায় ব্যবহার করা হয় একটি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। যার নাম ব্লু স্প্যারো মিসাইল।
3
11
কী এই ব্লু স্প্যারো ক্ষেপণাস্ত্র? ব্লু স্প্যারো একটি উন্নত এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল। অর্থাৎ, যুদ্ধবিমান থেকে চালন করা যায় এমন একটি মিসাইল। মিসাইলটি আকাশে উঠে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রান্তের দিকে চলে যায়। তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ফিরে আসে। এই বিশেষ গতিপথের কারণেই একে অনেক সময় “মিসাইল ফ্রম স্পেস” বলা হয়।
4
11
প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মিসাইলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৫ মিটার। ওজন আনুমানিক ১.৯ টন। ব্লু স্প্যারো আসলে একটি বৃহত্তর ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের অংশ। এই পরিবারে ব্লু স্প্যারোর পাশাপাশি রয়েছে ব্ল্যাক স্প্যারো এবং সিলভার স্প্যারো। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি প্রথমে তৈরি হয়েছিল প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার কাজে এগুলি ব্যবহার করা হত।
5
11
এই প্রকল্পটি তৈরি করেছিল ইজরায়েল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন অধিদপ্তর। এটি ব্যবহার করা হয়েছিল অ্যারো মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের পরীক্ষায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমানে এই মিসাইল নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আক্রমণ করতে পারে।
6
11
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলাটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। সেন্ট্রাল ইন্টালিজেন্স এজেন্সি দীর্ঘদিন ধরে খামেনেইয়ের গতিবিধির উপরে নজর রেখেছিল। তাদের কাছে তথ্য ছিল, তেহরানের একটি সরকারি কমপাউন্ডে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে খামেনেই উপস্থিত থাকবেন।
7
11
এই তথ্য পরে ইজরায়েলকে দেওয়া হয়। আক্রমণের দিন সকাল প্রায় ৭টা ৩০ মিনিটে ইজরায়েলের যুদ্ধবিমান উড়ান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ওই বিমানগুলি লক্ষ্যকেন্দ্রে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। মোট ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্লু স্প্যারো ক্ষেপনাস্ত্রও ছিল। হামলায় ইরানের অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মহম্মদ পাকপোর, যিনি ইসলামিক রেভেনিউশনারি গার্ড ক্রপ্স এর শীর্ষ কমান্ডারদের একজন অন্যতম পথিকৃত।
8
11
আক্রমণের আগে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ইজরায়েলি সেনা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ধারণা তৈরি করে যে সপ্তাহান্তে কোনও সামরিক অভিযান হবে না। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এমন ছবি প্রকাশ করা হয় যেখানে দেখা যায় শীর্ষ কর্মকর্তারা সকলে বাড়ি ফিরছেন। ফলস্বরূপ ধারণা করা হয় সামরিক কার্যকলাপ থেমে গিয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে সেই সময় গোপনে হামলার প্রস্তুতি চলছিল।
9
11
ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসসাদ, খামেনেইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর দীর্ঘদিন নজর রেখেছিল। পাশাপাশি, তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিট এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।
10
11
এমনকী, আক্রমণের সময় ওই এলাকার কয়েকটি মোবাইল টাওয়ারও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠাতে পারেনি।
11
11
বিশ্লেষকদের মতে, এই আক্রমণ আধুনিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য আধুনিক গোয়েন্দা প্রযুক্তি এবং নজরদারি ব্যাবস্থাও। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা।