উত্তরবঙ্গসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে আগামী দু’দিন আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দপ্তর। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশ অঞ্চলের উপর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে।
2
9
এর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি ট্রফ লাইন বিস্তৃত হয়েছে, যা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের উপর দিয়ে গিয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা প্রবেশ করছে, যা বজ্রঝড়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
3
9
এর প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে পূর্বাভাস। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য জেলাগুলির অনেক জায়গাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
4
9
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই এক বা দুই জায়গায় বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমক এবং ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।বিশেষত খোলা জায়গায় থাকা, গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বা জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে।
5
9
এছাড়াও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলায় এক বা দুই জায়গায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে, যা পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
6
9
পরবর্তী পর্যায়ে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায়ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে এবং কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ কিছুটা কমে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে, তবে বজ্রঝড়ের ঝুঁকি বজায় থাকবে।
7
9
এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি এবং ঝড়ের সম্ভাবনা থাকবে। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
8
9
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা, বিদ্যুতের খুঁটি বা বড় গাছের নিচে না দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদেরও ফসল সুরক্ষিত রাখার জন্য আগাম ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
9
9
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বঙ্গে আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাব অব্যাহত থাকবে, ফলে সতর্কতাই একমাত্র সুরক্ষা।