কলকাতা। তার নামের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ‘সিটি অফ জয়’। কিন্তু এই শহরেই অনেক সময় ভালবাসার মানুষটির সঙ্গে দু’দণ্ড নিরিবিলি কাটানো যেন এক অঘোষিত সংগ্রাম হয়ে ওঠে। জ্যাঠা মনোভাব মানুষের অযাচিত নজরদারি, পথচলতি কৌতূহলী চোখ, স্বঘোষিত নৈতিকতার প্রহরী কিংবা অতিসক্রিয় কর্তৃপক্ষ—সব মিলিয়ে শহরের খোলা আকাশের নিচেও যেন গোপনীয়তার চূড়ান্ত অভাব।
2
11
তবু প্রেম থেমে থাকে না। কোলাহলের শহরেই ছড়িয়ে আছে কিছু নীরব আশ্রয়, যেখানে বিচার নয়, বরং বাতাস ফিসফিস করে কথা বলে। এতটাই চুপচাপ সেসব জায়গা। যেখানে ক্যামেরার চোখের চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে নদীর ঢেউ, গাছের ছায়া আর পাখির ডানা। এমনই ছ’টি জায়গা খুঁজে দেখা যাক, যেখানে ভালবাসা একটু নিঃশ্বাস নিতে পারে।
3
11
রবীন্দ্র সরোবর — প্রেমের সাক্ষী কেবল জল আর পাখিরা :
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় আড্ডাস্থল দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর। বিশাল বিশাল গাছের ছায়া চারপাশে, শান্ত টলটলে জলের লেক আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বেঞ্চের সারি। সব মিলিয়ে এক অনাড়ম্বর নিরিবিলি জায়গা।
4
11
এখানে প্রেমিক-প্রেমিকাদের নীরব মুহূর্তে দর্শক বলতে মূলত পরিযায়ী পাখি আর কিছু স্বাস্থ্যসচেতন পথচারী, যারা সাধারণত নিজেদের ছন্দেই ব্যস্ত থাকেন।
5
11
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: ঐতিহ্যবাহী বাগানে ভালবাসার নরম বিকেল
ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এর বিস্তীর্ণ ৬৪ একর চত্বর যেন শহরের মাঝখানে এক সবুজ আবরণ। ঝোপঝাড়ের আড়ালে কিংবা বিস্তৃত লনের প্রান্তে মিলতে পারে ব্যক্তিগত পরিসর। রোদ হোক বা হালকা বৃষ্টি, স্রেফ একটি ছাতা অনেক সময় হয়ে ওঠে দু’জন ভালবাসা মানুষের একান্ত ছোট্ট পৃথিবী।
6
11
প্রিন্সেপ ঘাট — সেতুর নীচে নদীর বুকে:
ডেটিং স্পটের তালিকায় প্রিন্সেপ ঘাটের নাম প্রায় অনিবার্যভাবে উপরের দিকেই আসবে। দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ছায়ায় দাঁড়িয়ে হাত ধরার মুহূর্ত যেন অন্য রকম। চাইলে নৌকায় চেপে নদীর মাঝখানে ভেসে পড়াও যায়। ঢেউয়ের শব্দ আর সন্ধ্যার আলোয় শহরটাকে দূর থেকে দেখতে দেখতে সময় থেমে থাকে কিছুটা। সবার কৌতূহল থেকে দূরে আরও কাছাকাছি নিজেদের পাওয়া যায়।
7
11
নন্দন — সিনেমা আর নীরবতা:
সিনেমাপ্রেমী সঙ্গী থাকলে গন্তব্য হতে পারে নন্দন। চলচ্চিত্র দেখার পাশাপাশি প্রাঙ্গণের ফোয়ারার ধারে বসেও কাটানো যায় নিরিবিলি সময়। রয়েছে সুন্দর সাজানো এক গোছানো চত্বর। আবার খানিক শান্তভাবে নিজস্ব পরিসরে কাটানোর মতোও সুযোগ। এখানে সাধারণত কেউ বিশেষভাবে নজর দেয় না কারও ব্যক্তিগত মুহূর্তে।
8
11
সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্ক — সবুজের আড়ালে
বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্ক (অনেকের কাছে যা ‘বনবীথি’ নামেও পরিচিত) লেকের ধারে হাওয়া আর গাছের সারি মিলে তৈরি করে প্রশান্ত পরিবেশ। দিনের ভিড় এড়িয়ে গেলে এখানে মিলতে পারে কিছুটা ব্যক্তিগত পরিসর।
9
11
বেণুবন ছায়া — বাইপাসের পাশের গোপন কোণ
ইএম বাইপাস লাগোয়া পাটুলির বেণুবন ছায়া অনেকের কাছেই ছোট্ট ‘সরোবর’। গাছঘেরা এলাকা, তুলনামূলক কম ভিড়, সব মিলিয়ে এটি অনেকের পছন্দের নিরিবিলি আড্ডাস্থল।
10
11
তবে জায়গার হদিস দেওয়ার পাশাপাশি রইল কিছু পরামর্শও।
সময় বেছে নিন: সপ্তাহের দুপুর বা খুব সকাল। কারণ তখন সাধারণত কম ভিড় থাকে এসব জায়গায়।
অবস্থান বুঝে বসুন: মূল পথ বা প্রবেশদ্বার থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে বসুন। কারণ তুলনামূলকভাবে সেসব জায়গায় গোপনীয়তা বেশি।
নৌকাভ্রমণ: প্রিন্সেপ ঘাটে ব্যক্তিগত নৌকা ভাড়া করলে নদীর বুকে পাওয়া যায় আলাদা অনুভূতি। এবং অবশ্যই ব্যক্তিগত পরিসর।
11
11
ভালবাসার শহরে ভালবাসার জায়গা থাকবেই। প্রয়োজন শুধু একটু সচেতনতা আর পারস্পরিক সম্মান। কোলাহলের মাঝেও কলকাতা এখনও এমন কিছু কোণ আগলে রেখেছে, যেখানে বিচার নয়, শুধু অনুভূতিই মুখ্য।