বয়স ৫০ পেরিয়েছে? অবহেলা না করে মার্চ মাসে অবিলম্বে নিন এই টিকাগুলো...
নিজস্ব সংবাদদাতা
৫ মার্চ ২০২৬ ১০ : ৫৫
শেয়ার করুন
1
9
বসন্ত আসতে শুরু করলেই অনেকের মনে হয় শীতকালীন অসুখ—ফ্লু, সর্দি-কাশি বা ভাইরাস সংক্রমণের সময় যেন শেষ হয়ে এসেছে। মার্চ মাসে দিন বড় হতে শুরু করলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ধরে নেন ঠান্ডা বা ভাইরাসের মরশুম শেষের পথে। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধারণা অনেক সময় ভুল হতে পারে, বিশেষ করে যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি তাদের ক্ষেত্রে।
2
9
চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া উষ্ণ হলেই ভাইরাসের ঝুঁকি হঠাৎ করে কমে যায় না। ফ্লু, কোভিড-১৯ বা আরএসভি–র মতো সংক্রমণ সারা বছরই ঘটতে পারে। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হতে থাকে, ফলে এসব সংক্রমণ থেকে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
3
9
পারিবারিক চিকিৎসক ডা. বেথ ওলার জানিয়েছেন, অনেকেই মনে করেন ফ্লু মৌসুম শেষের দিকে গেলে টিকার আর বিশেষ দরকার নেই। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। তাঁর মতে, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই বয়সে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনেক বেশি।
4
9
সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লুইস মার্কোসের কথায়, ৫০ বছর পার হওয়ার পরে যদি মানুষ এসব ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তাহলে তার ফল অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে। নিউমোনিয়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন, দীর্ঘস্থায়ী কোভিড বা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি শিংলস রোগ হলে দীর্ঘদিন স্নায়বিক ব্যথাও ভোগাতে পারে।
5
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমিউন সিস্টেম আগের মতো শক্তিশালী থাকে না। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লিন্ডা ইয়ান্সি বলেন, মানুষের শরীর যেমন বয়সের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও তেমনই দুর্বল হতে থাকে। ফলে যে অসুখ তরুণ বয়সে খুব সহজে সেরে যেত, তা বয়স্কদের ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার নিতে পারে।
6
9
এই কারণেই চিকিৎসকেরা বলছেন, টিকা নেওয়া আসলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এটি শুধু সংক্রমণ প্রতিরোধই করে না, বরং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দেয়।
7
9
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিকা নিয়মিত আপডেট রাখা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু টিকা, কোভিড-১৯ টিকা, শিংলস টিকা, নিউমোকক্কাল টিকা, আরএসভি টিকা এবং টিডিএপি টিকা। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা), চিকেনপক্স বা জস্টার টিকাও প্রয়োজন হতে পারে।
8
9
চিকিৎসকেরা আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে এসব টিকা পাওয়া খুবই সহজ। প্রাথমিক চিকিৎসক, ফার্মেসি, স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর বা বিশেষ ক্লিনিক—বিভিন্ন জায়গাতেই এই টিকা দেওয়া হয়। অনেক ফার্মেসিতে একবারেই একাধিক টিকা নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে।
9
9
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তের সময় সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে চাইলে এখনই টিকা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। কারণ সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকাই এখনও সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা। বয়স বাড়লেও সক্রিয় জীবনযাপন চালিয়ে যেতে চাইলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার এই সহজ উপায়টিকে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।