চলতি বছরে সোনার দাম একাধিকবার ওঠানামা করছে। এহেন খামখেয়ালি আচরণে রীতিমত ঘুম উড়েছে লগ্নিকারীদের। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ব রাজনীতি যখন টালমাটাল, তখন একইসঙ্গে সোনার দাম বাড়ার কথা। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো।
2
10
সোনার দামের এই পতন অবাক করেছে বাজার বিশেষজ্ঞদেরও। এই পরিস্থিতিতে লগ্নিকারীদের মনে একটাই প্রশ্ন- সোনা ছেড়ে কি তবে রুপোর দিকেই ঝুঁকতে হবে?
3
10
বাজারের এই সমীকরণ বুঝতে বিশেষজ্ঞরা ‘গোল্ড-সিলভার রেশিও’ বা সোনা ও রুপোর দামের অনুপাতের দিকে নজর দিতে বলছেন।
4
10
সোজা কথায়, এক ভরি সোনার দামে কত কেজি বা কত গ্রাম রুপো পাওয়া যায়, সেটাই এই অনুপাত। বর্তমানে এই অনুপাত ৬০-এর উপরে। অর্থাৎ, সোনার তুলনায় রুপো এখন বেশ সস্তা।
5
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে রুপোয় বিনিয়োগ লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কারণ রুপো কেবল গয়নার ধাতু নয়, বরং মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব শক্তির শিল্পেও এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। তাই শুধু সোনায় পড়ে না থেকে ঝুলি ভরাতে রুপোর কথাও ভাবা উচিত।
6
10
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। পুণের এমআইটি ডব্লিউপিইউ-এর অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শিম্পি সাবধান করে বলছেন, রুপোর বাজার বড় বেশি অস্থির। গত জানুয়ারি থেকে রুপোর দাম যে হারে পড়েছে, তাতে লগ্নিকারীদের ভয় পাওয়া স্বাভাবিক।
7
10
তাঁর মতে, ডলারের দাম বাড়লে সোনা অনেক বেশি ভরসাযোগ্য। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে এগোনো উচিৎ।
8
10
একই সুর গ্রেট লেকস চেন্নাইয়ের অধ্যাপক বিশ্বনাথন আইয়ারের গলাতেও। তিনি মনে করেন, ঝোঁকের মাথায় সোনা বেচে রুপো কেনা ঠিক হবে না। সোনা সবসময়ই বিপদের বন্ধু। আর রুপো হলো 'চঞ্চল ঘোড়ার মতো'। বাজার ভালো থাকলে সে দৌড়বে দ্রুত, কিন্তু বাজার পড়লে তার অবস্থা হবে কঠিন।
9
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও এক দিকে পাল্লা ভারী না করে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিৎ। তাতে আখেরে নিজেদেরই লাভ হয়৷
10
10
এক নজরে ভারতে ৩ এপ্রিলের বাজার দর সোনা ১০ গ্রাম ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭৪০ টাকা। আর রুপো ১ কেজি ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩২০ টাকা।