বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ। সেই সূত্রেই সামনে এসেছে ‘অর্ণব’ নামটি। বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর।
2
11
এই ধরণের সামুদ্রিক আবহাওয়ার ক্ষেত্রে নামটির অর্থও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এই নাম কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার ইচ্ছামত দেওয়া নয়। নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া মেনেই নাম নির্ধারণ করা হয়।
3
11
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়গুলির নামকরণের জন্য বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-এর আওতাধীন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় একাধিক দেশ আগে থেকেই নামের তালিকা তৈরি করে রাখে।
4
11
এই তালিকায় ভারত-সহ উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির প্রস্তাব করা নাম থাকে। নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী কোনও ঘূর্ণিঝড় নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পৌঁছালে সেই তালিকা থেকেই তার নাম বেছে নেওয়া হয়।
5
11
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের প্রধান উদ্দেশ্য হল কোনও নির্দিষ্ট ঝড়কে সহজে চিহ্নিত করা এবং তার সম্পর্কে সতর্কবার্তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। নাম থাকলে প্রশাসন, আবহাওয়া দপ্তর, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ—সকলের কাছেই সংশ্লিষ্ট ঝড়কে আলাদা করে শনাক্ত করা সহজ হয়।
6
11
ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। কোনও নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার গতিবিধি, বায়ুর গতিবেগ এবং সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়। নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে পূর্বনির্ধারিত তালিকা অনুসারে সংশ্লিষ্ট নামটি ব্যবহার করা হয়।
7
11
সাধারণভাবে একটি ঝড়ের সর্বোচ্চ বায়ুর গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে সেটি ঘূর্ণিঝড়ের শ্রেণিতে পৌঁছয়। তখন সংশ্লিষ্ট ঝড়ের জন্য আগে থেকে নির্ধারিত নাম ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।
8
11
অর্থাৎ, কোনও ঝড়ের নাম সংবাদমাধ্যমে প্রচলিত হয়ে যাওয়ার পর সেটি নির্ধারণ করা হয় না; বরং আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নামের তালিকা ও নির্দিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতেই নামকরণ করা হয়।
9
11
‘অর্ণব’ নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র। ফলে বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে তৈরি হওয়া কোনও শক্তিশালী নিম্নচাপের ক্ষেত্রে এই নাম সামনে এলে তার উৎস সম্পর্কে কৌতূহল তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
10
11
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের নামের তালিকায় থাকা মানেই সেই নামে ঝড় তৈরি হবে, এমন নয়। প্রথমে নিম্নচাপ, তার শক্তিবৃদ্ধি এবং নির্ধারিত শ্রেণিতে পৌঁছনোর বিষয়টি নিশ্চিত হতে হয়।
11
11
এরপরই পূর্বনির্ধারিত নাম ব্যবহার করা হয়। ফলে ‘অর্ণব’ নামটি মূলত একটি আগে থেকে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নামকরণ ব্যবস্থার অংশ, যার মাধ্যমে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে সহজে শনাক্ত করা যায়।