ছোটবেলা থেকেই সাপের গর্ত নিয়ে একাধিক গল্প আর জল্পনা ঘুরঘুর করে! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাস্তবে সাপ কখনও নিজের গর্ত নিজে খোঁড়ে না। মাটির নীচে ঘর বানানোর মতো কোনও শারীরিক ক্ষমতাই এদের নেই। তাহলে মাঠের ধারে বা ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে যে গর্ত থেকে ফণা বেরিয়ে আসে, সেটা আসলে কার তৈরি?
2
9
সচরাচর যাকে ‘সাপের গর্ত’ বলে ভুল করা হয়, তার সিংহভাগই আসলে ইঁদুর বা অন্য কোনও ছোট প্রাণীর তৈরি করা সুড়ঙ্গ। প্রথমে ইঁদুরটি শিকার করে পরে গর্তের পুরোপুরি দখল নেয় তারা।
3
9
ইঁদুরের গর্ত বা মাটির ঢিবি দখল করার পেছনে মূলত রয়েছে তিনটি কারণ রয়েছে। যেমন, সাপ এক জায়গায় খুব বেশি দিন থাকতে পছন্দ করে না, তাই বাড়ি বানানোর হ্যাপা পোহাতেও নারাজ। উইপোকা বা পিঁপড়ের ঢিবির চারপাশে ইঁদুর, ব্যাঙ কিংবা টিকটিকির আনাগোনা থাকে সবচেয়ে বেশি।
4
9
ফলে অন্যের বাড়িতে ঢুকলেই সাপের জন্য একেবারে হাতের কাছে শিকার জুটে যায়। আবার কোনও কোনও ছোট সাপ স্রেফ পিঁপড়ের ডিম বা লার্ভার টানেও সেখানে হাজির হয়।
5
9
সাপ হলো শীতল রক্তের প্রাণী। তাই বাইরের আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা হলে এদের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে। কিন্তু উইপোকার ঢিবির ভেতরের তাপমাত্রা সারা বছর প্রায় এক থাকে।
6
9
শীত বা গরম- সব ঋতুতেই এই মাটির ঘরগুলোর ভেতরে দারুণ আরামদায়ক পরিবেশ মেলে। এমন শান্তির নীড় ছেড়ে তারা কি আর অন্য কোথাও যেতে চায়?
7
9
উইপোকা বা পিঁপড়ের ঢিবির ভেতরটা একটা আস্ত গোলকধাঁধা। জটিল সুড়ঙ্গের জাল বিছানো থাকে সেখানে। বেজি কিংবা বড় কোনও শিকারি পাখি চাইলেও সেই সরু সুড়ঙ্গের ভেতরে সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
8
9
ফলে শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে সাপ সেখানে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। এরা সাধারণত ঢিবির চেয়ে পরিত্যক্ত ও ফাঁকা ঢিবিগুলোকেই থাকার জন্য বেশি পছন্দ করে।
9
9
অন্যদিকে, সাপ মানেই যে অন্যের বাড়িতে ভাগ বসানো, এমনটা কিন্তু নয়। এই অভ্যাসেরও ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন, দেশের অন্যতম পরিচিত বিষধর কিং কোবরা অন্যের ঘরে থাকতে একদমই পছন্দ করে না। ডিম পাড়ার সময় হলে এরা দিব্যি শুকনো পাতা, ডালপালা আর মাটি কুড়িয়ে সুন্দর ও পরিপাটি বাসা নিজেই বানিয়ে নেয়!