‘শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার করলে মেয়েকে মানিয়ে নিতে বলবেন না’, অভিভাবকদের কোন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল দিল্লি হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা
৬ নভেম্বর ২০২৬ ১৮ : ৫৩
শেয়ার করুন
1
9
বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি বা নির্যাতনের শিকার হলে মেয়েকে সবকিছু সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়। বরং তার নিরাপত্তা এবং সম্মানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে দিল্লি হাই কোর্ট।
2
9
আদালতের বক্তব্য, কোনও মেয়েকে কখনওই নির্যাতনমূলক বিবাহিত সম্পর্কে মানিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়। তার কাছে সবচেয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ পরিবেশ।
3
9
এই পর্যবেক্ষণ আসে বিচারপতি মধু জৈনের একটি মামলার শুনানিতে। গত ৪ নভেম্বর এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেয় আদালত। মামলাটি ছিল এক মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
4
9
২০১৬ সালে ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের দু’বছর পর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় ওই মহিলার। অভিযোগ ছিল, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে শারীরিক নির্যাতন এবং আর্থিক দাবির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
5
9
এই ঘটনায় মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়। নিম্ন আদালত স্বামী ও তাঁর বাবা-মাকে বধূমৃত্যুর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর উপর নিষ্ঠুরতা এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন স্বামী। অন্যদিকে, নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেন মৃতার মা এবং রাজ্য সরকারও।
6
9
মামলার নথি খতিয়ে দেখে হাই কোর্ট জানায়, ওই দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিবাদ ছিল। শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছিল। মৃত্যুর কিছুদিন আগে দম্পতির মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা, কাউন্সেলিং এবং আলাদা থাকার ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। এমনকি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টাও চলেছিল।
7
9
মৃত্যুর আগে এক বন্ধুকে পাঠানো বার্তায় নিজের চরম সিদ্ধান্তের জন্য স্বামীকে দায়ী করেছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু আদালতের মতে, শুধুমাত্র এই বার্তার ভিত্তিতে স্বামী তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই স্বামীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা চালানোর নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। পাশাপাশি বধূমৃত্যুর অভিযোগে স্বামীর বাবা-মায়ের অব্যাহতিও বহাল রাখা হয়।
8
9
তবে এই মামলার রায়ের পাশাপাশি আদালতের সামাজিক পর্যবেক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি বলেন, কোনও মেয়ে দাম্পত্য জীবনে হিংসা বা দীর্ঘদিনের দুর্ব্যবহারের কথা জানালে পরিবারের উচিত নয় তাঁকে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া। সমাজ কী বলবে, সেই ভয়ে মেয়েকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আসাও উচিত নয়। বিয়ে টিকিয়ে রাখার চেয়ে মেয়ের নিরাপত্তা এবং আত্মসম্মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
9
9
আদালতের আরও বক্তব্য, কোনও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর নয়, মেয়ের বিপদের কথা জানার সঙ্গে সঙ্গেই পাশে দাঁড়ানো উচিত পরিবারের। অর্থাৎ সংসার বাঁচানোর দায়িত্বের চেয়েও বড় দায়িত্ব মেয়ের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।