ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে এতদিন ভরসা ছিল ইনসুলিন, ওষুধ এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা। কিন্তু এবার সেই চিকিৎসা পদ্ধতিতেই আসতে পারে বড় পরিবর্তন।
2
10
বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এমন একটি ওয়্যারলেস ইলেকট্রনিক ইমপ্ল্যান্ট, যা শরীরের ভিতরে থেকেই রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে।
3
10
শুধু তাই নয়, এই প্রযুক্তিতে ইনসুলিন বা প্রচলিত ডায়াবিটিসের ওষুধের উপর নির্ভর করতে হবে না বলেই দাবি গবেষকদের। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এই যন্ত্র ব্যবহারের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে রক্তে শর্করার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সাফল্য মিলেছে।
4
10
সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু নতুন এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ অন্য পদ্ধতিতে কাজ করে। শরীরে অতিরিক্ত গ্লুকোজ জমলে ইমপ্ল্যান্টটি সেটিকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গ্লুকোনেটে (Gluconate) রূপান্তরিত করে। পরবর্তী সময়ে কিডনির মাধ্যমে সেই গ্লুকোনেট শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।
5
10
এই যন্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছে প্ল্যাটিনাম দিয়ে সজ্জিত সোনার ন্যানোক্লাস্টার। এটি একটি বিশেষ অনুঘটক বা ক্যাটালিস্ট হিসেবে কাজ করে। খুব কম শক্তি ব্যবহার করেই এই অনুঘটক গ্লুকোজকে গ্লুকোনেটে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।
6
10
রক্তে শর্করা বাড়লেই নিজে থেকে চালু হবে যন্ত্র!এই প্রযুক্তির অন্যতম বিশেষত্ব হল এর স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ইমপ্ল্যান্টটি একটি কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটর (CGM) এবং স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
7
10
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সক্রিয় হবে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় শর্করার মাত্রা ফিরে এলে আবার বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করবে এই ইমপ্ল্যান্ট। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সক্রিয় থাকার প্রয়োজন পড়বে না।
8
10
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পর শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। গ্লুকোজের পরিবর্তে শরীর শক্তির উৎস হিসেবে ফ্যাট বা চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি শরীরের ওজন এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও কমেছে বলে পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে।
9
10
তবে এই প্রযুক্তি এখনই সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। মানুষের শরীরে এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
10
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে পরীক্ষায় সফল হলে ডায়াবিটিস ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি নতুন দিশা দেখাতে পারে। তবে আপাতত ইনসুলিন বা চিকিৎসকের পরামর্শে চলা ওষুধ বন্ধ করার কোনও কারণ নেই।