ছ'বছর পর ফের কলকাতার মঞ্চে চিনা শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শনিবার সন্ধেয় নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘Colorful Yunnan, Rhythms of Kolkata’ অনুষ্ঠানে ইউনানের তরুণ শিল্পীদের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনের পাশাপাশি উঠে এল ভারতীয় সংস্কৃতিরও নানা দিক। রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বিশেষ তাৎপর্য যোগ করে।
2
9
ভারত ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে চিনের সাংস্কৃতিক যোগাযোগও সেই ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সেই ঐতিহ্যের আবহেই শনিবারের অনুষ্ঠানে দুই দেশের সংস্কৃতির মিলন ঘটল সংগীত ও নৃত্যের মঞ্চে।
3
9
অনুষ্ঠানে ভারত-চীন সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে সংস্কৃতির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন কলকাতায় চিনের কনসাল জেনারেল শু ওয়েই। তাঁর বার্তা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ যত বাড়বে, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বও ততই ঘনিষ্ঠ হবে। তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায় ‘people-to-people’ যোগাযোগ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়।
4
9
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শু ওয়েই বলেন, চীন একটি প্রাচীন সভ্যতা হলেও সময়ের সঙ্গে নিজেকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করেছে। অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে আদানপ্রদান সেই সাংস্কৃতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের নেতৃত্বের কৌশলগত দিশায় ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগও আরও প্রাণবন্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
5
9
ছ'বছরের বিরতির পর চিনা তরুণ শিল্পীদের কলকাতায় আসাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন শু ওয়েই। ইউনান থেকে আসা শিল্পীদের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রতিভাদের উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর আশা, এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে ভারত ও চিনের তরুণ প্রজন্ম আরও কাছাকাছি আসবে।
6
9
ভারতীয় দর্শনের ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর উল্লেখ করে চিনা কনসাল জেনারেল বলেন, প্রকৃত বন্ধুত্বের শুরু মানুষের মধ্য থেকেই। ভারত ও চিন—দুই দেশই প্রাচীন সভ্যতার ধারক এবং উভয় দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছে। সংস্কৃতির মাধ্যমেই দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের যোগ আরও দৃঢ় হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
7
9
কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রশংসা করেন শু ওয়েই। কলকাতাকে ‘ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী’ এবং ‘সিটি অফ জয়’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরে এসে ভারতের সমৃদ্ধ, বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতিকে আরও গভীরভাবে অনুভব করেছেন। দু'দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে মানুষে-মানুষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
8
9
এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ইউনানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত সংগীত ও নৃত্য। ইউনান আর্টস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও পড়ুয়ারা চিনা লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্য, প্রাণবন্ততা এবং প্রকৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ককে পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারতীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণও অনুষ্ঠানে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও স্পষ্ট করে।
9
9
শু ওয়েইয়ের কথায়, ‘সংস্কৃতির কোনও সীমানা নেই।’ পাহাড় ও সমুদ্র পেরিয়েও সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যেতে পারে। কলকাতার মঞ্চে ইউনানের শিল্পীদের এই পরিবেশনা সেই সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনেরই একটি উদাহরণ। আগামী দিনে ভারত ও চিনের মধ্যে আরও বেশি সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। (প্রতিবেদন: দীক্ষা ভুঁইয়া)