পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট তীব্র হওয়ায় ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা দেশের অন্যতম প্রধান কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে প্রকট হয়েছে।
2
12
এই পরিস্থিতিতে বায়োগ্যাস এবং সংকুচিত বায়োগ্যাস (সিবিজি)-কে একটি কার্যকর দেশীয় সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বায়োগ্যাস আগামী দশকে দেশের জ্বালানি মানচিত্রকে নতুন রূপ দিতে সক্ষম।
3
12
গত এক দশকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির উপর নির্ভরতা ক্রমাগত বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে তা রেকর্ড ৮৯.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের পেট্রোলিয়াম আমদানির বিল প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে অনুমান।
4
12
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জোগানে ঘাটতি ইত্যাদি নানা কারণে ভারতকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তুলনায় বায়োগ্যাস দেশীয় সম্পদের উপরেই নির্ভরশীল।
5
12
স্মলকেস-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের বিশাল কৃষি অর্থনীতি, বিপুল গবাদি পশুর সংখ্যা এবং শহুরে বর্জ্য উৎপাদন এমন এক জ্বালানি সম্পদের ভিত্তি তৈরি করেছে, যা খুব কম প্রধান অর্থনীতিরই রয়েছে।
6
12
স্মলকেস-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, কৃষি বর্জ্য, গবাদি পশুর বর্জ্য, পৌর কঠিন বর্জ্য এবং শিল্প উপজাতগুলিকে কেবল বর্জ্য হিসেবেই নয়, বরং কৌশলগত শক্তি সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যা আমদানি করা হাইড্রোকার্বনের উপর ভারতের নির্ভরতা কমাতে সক্ষম।
7
12
কোয়ান্টেস রিসার্চের স্মলকেস ম্যানেজার এবং এমডি ও সিইও কার্তিক জোনাগাডলা বলেছেন, “চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্থবির হয়ে আছে, যা অর্থনীতিকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি, আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতি এবং বাহ্যিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বায়োগ্যাস ভারতের জন্য উপলব্ধ কয়েকটি সম্প্রসারণযোগ্য এবং অবিলম্বে প্রয়োগযোগ্য অভ্যন্তরীণ বিকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।”
8
12
ভারতে প্রচুর পরিমাণে গরু রয়েছে। ১৯৮০-এর দশক থেকে সরকার স্বল্প খরচের গ্রামীণ শক্তির উৎস হিসেবে বায়োগ্যাসকে উৎসাহিত করে আসছে। গুজরাট, পাঞ্জাব, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং উত্তর প্রদেশের মতো দুগ্ধ উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে গোবর পাওয়া যায়।
9
12
কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার (সিইইডব্লিউ)-এর একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুসারে, ভারতে প্রায় ৪ কোটি গবাদি পশু পালনকারী পরিবার রয়েছে, যাদের প্রত্যেকের তিনটি বা তার বেশি পশু আছে।
10
12
ঋতুগত পরিবর্তন বিবেচনা করার পর, তিনটি গবাদি পশু-সহ একটি পরিবার বছরে প্রায় ১০০ কেজি এলপিজি (প্রায় সাতটি সিলিন্ডারের সমান) প্রতিস্থাপনের জন্য যথেষ্ট বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে পারে।
11
12
ভারতের সিবিজি উৎপাদন ক্ষমতা খাতায় কলমে বছরে আনুমানিক ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অথচ, বর্তমান উৎপাদন ১ শতাংশেরও কম, যা দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির এক বিশাল অব্যবহৃত সুযোগ তৈরি করছে।
12
12
স্মলকেস-এর রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে প্রতি বছর ৫০ কোটি টনেরও বেশি কৃষি বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গবাদি পশুর সংখ্যা রয়েছে, যা বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য একটি অন্যতম কাঁচামাল।