ভারতে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন, তবে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব। এর সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম। কিন্তু কীভাবে তৈরি হয় এই জীবনদায়ী ওষুধ? কেনই বা এই ওষুধ তৈরিতে ঘোড়ার রক্ত ব্যবহার করা হয়?
2
7
চিকিৎসকদের মতে, ভারতের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষধর সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান কোবরা (গোখরো), কমন ক্রেইট (কালাচ) এবং রাসেলস ভাইপার। এদের বিষ স্নায়ুতন্ত্র, রক্ত এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই প্রজাতিগুলোর বিষ সংগ্রহ করেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম তৈরি করা হয়।
3
7
এই প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞরা বিষধর সাপ থেকে সতর্কতার সঙ্গে সামান্য পরিমাণ বিষ সংগ্রহ করেন। এরপর বিশেষ গবেষণাগারে সেই বিষ বিশুদ্ধ করা হয় এবং ঘোড়ার শরীরে অত্যন্ত কম ও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় তা প্রবেশ করানো হয়। এই পরিমাণ বিষ ঘোড়ার কোনও ক্ষতি করে না। তবে তা ঘোড়ার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এমনভাবে উদ্দীপ্ত করে যাতে শরীর প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ও মাস ধরে ঘোড়ার রক্তে এই অ্যান্টিবডিগুলো গড়ে ওঠে।
4
7
পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গেলে কঠোর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঘোড়ার শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর রক্ত থেকে অ্যান্টিবডি-সমৃদ্ধ প্লাজমা আলাদা করা হয়, বিভিন্ন ধাপে বিশুদ্ধ করা হয় এবং অ্যান্টি-স্নেক ভেনমে রূপান্তর করা হয়। চূড়ান্ত ওষুধ জীবাণুমুক্ত শিশিতে ভরে সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়। ভারতে চিকিৎসাগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষধর সাপগুলোর কামড়ের চিকিৎসার উপযোগী করেই এই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম প্রস্তুত করা হয়।
5
7
সাধারণত এক শিশি অ্যান্টি-স্নেক ভেনমের দাম প্রায় ৩০০ টাকা, তবে সাপের বিষের তীব্র প্রভাব বা 'এনভেনমেশন'-এর ক্ষেত্রে রোগীর একাধিক ডোজের প্রয়োজন হতে পারে। ঠিক কত শিশি ওষুধের প্রয়োজন হবে তা নির্ভর করে সাপের কামড়ের তীব্রতার ওপর। চিকিৎসকরাই তা নির্ধারণ করেন। সরাসরি রক্তপ্রবাহে ইনজেকশন দেওয়ার পরিবর্তে, এই ওষুধটি সাধারণত স্যালাইনের সঙ্গে মিশিয়ে ধীরগতিতে ইন্ট্রাভেনাস ড্রিপের মাধ্যমে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়।
6
7
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সবসময় চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রয়োগ করা হয়। সাপের কামড়ের পর ঘরোয়া টোটকা বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত থাকতে হবে, কামড় খাওয়া অঙ্গটির অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়াতে হবে এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ভারতের সরকারি জেলা হাসপাতালগুলোতেও বিনামূল্যে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম পাওয়া যায়।
7
7
অ্যান্টি-স্নেক ভেনম প্রয়োগের প্রয়োজন আছে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকরা প্রতিটি রোগীকে পরীক্ষা করে দেখেন। কারণ সাপের কামড়ের সব ক্ষেত্রেই শরীরে বিষ প্রবেশ করে না বা এভিএস চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। সাপের কামড় একটি জরুরি চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতি, তাই সাপের কামড়ের শিকার ব্যক্তির নিজে নিজে চিকিৎসার চেষ্টা না করে অবিলম্বে একজন যোগ্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।