২০২৬ সালের শারদোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন থেকেই চর্চায় উঠে এসেছে ২০২৮ সালের দুর্গাপুজো। কারণ ওই বছর মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দু’বার দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে পঞ্জিকাকার ও শাস্ত্রজ্ঞদের মহলে।
2
13
এই খবরে পাড়ার মোড় থেকে শুরু করে চায়ের ঠেক—সর্বত্রই বাঙালির একটাই আলোচনা, এক বছরে কি তবে সত্যিই দু’বার মায়ের আরাধনা করার বিরল সুযোগ মিলবে?
3
13
এর আগে ১৯৮০ সালেও পঞ্জিকার গণনার জেরে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে দু’বার দুর্গাপুজো হয়েছিল, আর তারও আগে এমন ঘটনার নজির মিলেছিল ১৯১৮ সালে।
4
13
মূলত বাংলায় তিথির হিসাব অনুযায়ী দু’টি পৃথক মত মেনে পঞ্জিকা রচিত হয়—একটি বিশুদ্ধ বা দৃকসিদ্ধ সিদ্ধান্ত এবং অন্যটি প্রাচীন সূর্যসিদ্ধান্ত, যা গুপ্ত প্রেস ও বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা অনুসরণ করে।
5
13
বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং তাদের অনুগামীরা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তের নির্ঘণ্ট মেনে চলেন, অন্যদিকে রাজ্যের সিংহভাগ পাড়ার বারোয়ারি পুজোর নির্ঘণ্ট ঠিক হয় সূর্যসিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে।
6
13
মহাজাগতিক গণিতভিত্তিক গণনা আর গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানগত গণনার এই ফারাকের কারণেই ১৯৮০ সালে তৈরি হয়েছিল নজিরবিহীন এক পরিস্থিতি।
7
13
সেবার একটি মত অনুযায়ী যখন মহালয়া, অন্য মতে তখন কালীপুজো; একটি মতে যখন মহানবমী, অন্য মতে তখন জগদ্ধাত্রী পুজো চলছিল। ২০২৮ সালেও দুই পঞ্জিকার হিসাবে পুজোর মধ্যে প্রায় পক্ষকাল বা ১৫ দিনের তফাত থাকার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
8
13
তবে এই ভিন্ন মত নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি বা বিরোধের কোনও জায়গা নেই বলেই আশ্বস্ত করছেন শাস্ত্রজ্ঞরা। সর্ব ভারতীয় প্রাচ্য বিদ্যা আকাদেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারীর মতে, এতে কোনও পুজোই ভুল বা অশুদ্ধ নয়, বরং দু’টি পুজোই পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্রীয় আচার ও নিষ্ঠা মেনে সম্পন্ন হবে।
9
13
সাধারণ ভক্তরা চাইলে কোনও দ্বিধা ছাড়াই দু’বারই অঞ্জলি দিতে পারেন। এদিকে পঞ্জিকা প্রস্তুতকারক গুপ্ত প্রেসের কর্ণধার অরিজিৎ রায়চৌধুরী অবশ্য জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের নির্ঘণ্ট নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনও আসেনি, কারণ তাঁদের ২০২৭ সালের গণনাই বর্তমানে চলছে।
10
13
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৭ সালের হিসাবেও কিছুটা গরমিল দেখা যাচ্ছে—এক মতে দু’দিন অষ্টমী তো অন্য মতে দু’দিন নবমী পড়ার ইঙ্গিত মিলছে। পঞ্জিকা প্রকাশক পূর্ণচন্দ্র শীলও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে অতীতে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে কার্তিক মাসে এবং সূর্যসিদ্ধান্ত মতে আশ্বিন মাসে পুজো হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।
11
13
এ সবের মাঝে আমবাঙালির মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরে পুজোর ছুটি কোন সময়ে মিলবে?
12
13
শাস্ত্রজ্ঞ ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, আশির দশকে যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তখন অধিকাংশ বারোয়ারি পুজো সূর্যসিদ্ধান্ত মেনে হওয়ার কারণে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু সেই অনুযায়ীই ছুটি নির্ধারণ করেছিলেন।
13
13
সেই পুরনো নজির কার্যকর থাকলে ২০২৮ সালেও আশ্বিন মাসের মূল বারোয়ারি পুজোর সময়কালেই সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা রাজ্য সরকারের উৎসবের ছুটি পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।