রেলে যাতায়াতকারী কোটি কোটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য সুখবর। ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এক বড়সড় বৈষম্য দূর করে এবার সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে চলেছে ভারতীয় রেল।
2
10
আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে রেলস্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটলেও যাত্রীরা পাবেন ‘ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স’ বা ভ্রমণ বিমার সুবিধা।
3
10
এতদিন পর্যন্ত আইআরসিটিসি-র (IRCTC) ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে ই-টিকিট বুকিংয়ের সময়েই কেবল এই বিমা বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। এর ফলে যাঁরা অফলাইনে সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতেন, তাঁরা এই আর্থিক সুরক্ষাবলয় থেকে বঞ্চিত হতেন। এবার সেই বিভেদ ঘুচিয়ে অফলাইন ও অনলাইন—উভয় মাধ্যমের যাত্রীদের এক ছাতার তলায় আনার উদ্যোগ নিল রেল।
4
10
এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতের এক কড়া নির্দেশ। ২০২৩ সালের জুন মাসে ওড়িশার বালেশ্বরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পর যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল।
5
10
সেই প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে গত ৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে কেনা সংরক্ষিত টিকিটের ক্ষেত্রেও সমানভাবে বিমা কভার চালু করতে হবে।
6
10
নির্দেশ কার্যকর করার জন্য রেলকে আগামী ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল এবং নির্দেশ অমান্য হলে রেলওয়ে বোর্ডকেই সরাসরি দায়ী করা হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
7
10
আদালতের নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসে রেল প্রশাসন। জানা গিয়েছে, অনলাইনে যে শর্তে বিমা দেওয়া হয়, কাউন্টার টিকিটেও প্রায় একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি যাত্রীর ক্ষেত্রে কর-সহ প্রিমিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য—মাত্র ৪৫ পয়সা।
8
10
কোনও কারণে ট্রেনযাত্রার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা প্রাণহানি বা স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার পরিস্থিতি তৈরি হলে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। এছাড়া আংশিক অক্ষমতা ও গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার খরচের জন্যও আলাদা কভারেজ থাকে।
9
10
দেশের একটি বিশাল অংশের মানুষ এখনও ইন্টারনেট বা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন; দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিটের জন্য তাঁরা ভরসা করেন স্টেশনের পিআরএস (PRS) কাউন্টারেই। সেই সাধারণ খেটে খাওয়া ও অফলাইন বুকিং করা যাত্রীদের কাছে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক হতে চলেছে।
10
10
কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার সময় কীভাবে এই বিকল্প বেছে নিতে হবে এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দাবি জানানোর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে রেলের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি হলে যাত্রীদের কাছে বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হবে।