অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের অব্যবহৃত অর্জিত ছুটি বা Earned Leave-এর টাকা পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ দিন করার দাবি উঠেছে।
2
11
এই প্রস্তাব গৃহীত হলে অবসরের সময় এককালীন বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে কর্মীদের জন্য। তবে এখনই এই সুবিধা চালু হচ্ছে না।
3
11
বর্তমানে ছুটি নগদায়নের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ দিনই রয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া এই নিয়মে কোনও পরিবর্তন হবে না।
4
11
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা চাকরির মেয়াদে অর্জিত যে ছুটি ব্যবহার করেন না, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অবসরের সময় সেই ছুটির পরিবর্তে টাকা পেতে পারেন। এই ব্যবস্থাকেই বলা হয় Leave Encashment বা ছুটি নগদায়ন।
5
11
সাধারণত অবসরের সময় প্রযোজ্য বেতন, মহার্ঘ ভাতা, জমে থাকা যোগ্য ছুটির পরিমাণ এবং নির্ধারিত নিয়মের ভিত্তিতে এই টাকা হিসাব করা হয়।
6
11
বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩০০ দিনের ছুটি নগদায়নের সুবিধা রয়েছে। অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস সহ বিভিন্ন কর্মী সংগঠন এই সীমা বাড়িয়ে ৪৫০ দিন করার দাবি জানিয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান সীমার তুলনায় আরও ১৫০ দিনের অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
7
11
অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে কর্মীদের বেতন, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং অন্যান্য ভাতা ও অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সংশোধনের দাবিও জানানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলির কোনওটিকেই সরকারি অনুমোদন পাওয়া সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
8
11
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ছুটি নগদায়নের সর্বোচ্চ সীমা ৪৫০ দিন হলে যোগ্য কর্মীরা ১৫ মাসের সমপরিমাণ বেতন পর্যন্ত নগদায়নের সুযোগ পেতে পারেন, যেখানে বর্তমান ৩০০ দিনের সীমা ১০ মাসের সমান। ফলে অবসরের সময় এককালীন প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বাড়তে পারে।
9
11
এই অতিরিক্ত টাকা অবসরের পর দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা, ঋণ পরিশোধ কিংবা ভবিষ্যতের আর্থিক সুরক্ষা তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে কর্মীর শেষ বেতন, DA, জমে থাকা যোগ্য ছুটি এবং প্রযোজ্য নিয়মের উপর। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে ছুটি নগদায়নের করছাড়ও সংশ্লিষ্ট আয়কর বিধি অনুযায়ী বিবেচিত হবে।
10
11
কেন্দ্র ৩ নভেম্বর ২০২৫-এ বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের মে-জুন মাস নাগাদ রিপোর্ট আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
11
11
তাই ৪৫০ দিনের Leave Encashment নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হবে। সরকারি আপডেটের জন্য কর্মীরা https://8cpc.gov.in/ ওয়েবসাইটে নজর রাখতে পারেন।