একসময় বলিউডের অন্যতম চর্চিত জুটি ছিলেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ এবং অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিন। তাঁদের প্রেম থেকে বিয়ে এবং পরবর্তীকালে বিচ্ছেদ, সবই উঠে আসত বিনোদনের দুনিয়ার শিরোনামে। তবে বিচ্ছেদের প্রায় এক দশক পর তাঁদের মধ্যে আর তিক্ততা নেই, বরং রয়েছে বন্ধুত্ব। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কল্কি জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁরা এই ‘অসম্ভব’কে সম্ভব করলেন এবং কেন বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন সঙ্গীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
কল্কির মতে, বিচ্ছেদের ঠিক পরেই একে অপরের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, মনের ভেতর যদি কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ জমা রাখতে না চান, তবে নিজেকে সময় দেওয়া উচিত। কল্কি জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর তিনি এবং অনুরাগ একে অপরের থেকে দীর্ঘ সময় দূরে ছিলেন। এই সময়টা তাঁদের নিজেদের ক্ষত সারিয়ে তুলতে এবং নতুন জীবনকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল।
সাক্ষাৎকারে কল্কি বলেন, "যদি আপনি কারও প্রতি তিক্ততা বা ঘৃণা পোষণ করতে না চান, তবে আপনাকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।" অভিনেত্রী বিশ্বাস করেন, বিচ্ছেদের পরপরই বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করলে অনেক সময় পুরনো তিক্ততা ফিরে আসতে পারে। তাই দুই পক্ষ যখন মানসিকভাবে শান্ত এবং স্থির হয়, তখনই ফের বন্ধুত্ব শুরু করা সহজ। অনুরাগের সঙ্গে তাঁর বর্তমান সম্পর্কের ভিত্তি হল সেই সময়টুকুর ধৈর্য, যা তাঁরা একে অপরকে দিয়েছিলেন।
বর্তমানে কল্কি ও অনুরাগ কেবল উভয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী নন, বেশ ভাল বন্ধুও। অনুরাগ কাশ্যপের মেয়ে আলিয়ার বিয়েতে কল্কিকে হাসিমুখে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কল্কি এখন গায় হার্শবার্গের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন এবং তাঁদের একটি সন্তানও আছে। অন্যদিকে, অনুরাগের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কল্কি মনে করেন, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই মানুষটার প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলা নয়।
বলিউডের এই অভিনেত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, জীবনের কোনও অধ্যায় শেষ হয়ে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়। বরং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কখনও কখনও দূরে সরে যাওয়া উচিত। গ্ল্যামার দুনিয়ায় যেখানে বিচ্ছেদের পর কাদা ছোড়াছুড়ি খুব সাধারণ বিষয়, সেখানে কল্কি ও অনুরাগের এই পরিণত মানসিকতা যেন অনুরাগীদের জন্য অনুপ্রেরণা।















