বনগাঁর সেই বহুচর্চিত ক্লাব কর্তাকে গ্রেফতারির ঘটনায় এবার উলট পুরাণ! টলিউড অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এবার বনগাঁ থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের কর্তা তনয় শাস্ত্রী। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই দাবি করেছেন। পাশাপাশি সাফ জানিয়েছেন, গত ১১ই জুন তিনি মিমির বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছেন এবং আইনি পথেই এর শেষ দেখে ছাড়বেন।

তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দাপটে তাঁকে বিনা দোষে ফাঁসানো হয়েছিল দাবি করে তনয় শাস্ত্রী বলেন, এখন পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তাই তিনি নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশ সুপার ও বনগাঁ থানায় দ্বারস্থ হয়েছেন।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এবার আইনি লড়াইয়ে পাল্টা চাল দিলেন তনয় শাস্ত্রী। সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ওঁর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমাকে যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল, আমি তখনই একটা কথা বলেছিলাম— বিনা দোষে কাউকে গ্রেফতার করানো হলে তার শাস্তি তাকেও পেতে হয়। আইনের মাধ্যমে আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। বনগাঁ কোর্টে আমি মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলাম। তখন রাজ্যে তৃণমূল সরকার ছিল, উনি নিজে তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন। ফলে ক্ষমতার জোরে আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। তার জন্য ওঁর কোনও অনুতাপ নেই।”

তনয় আরও জানান, আগে বনগাঁ আদালতে মিমির বিরুদ্ধে যে মামলাটি তিনি করেছিলেন, সেটি তুলে নেওয়ার জন্য তিনি আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। কারণ এবার সরাসরি থানার মাধ্যমেই কেসটি এগোবে। ওঁর দাবি, “মিমি চক্রবর্তীকে এবার অবশ্যই বনগাঁ আদালতে জামিন নিতে আসতে হবে।”

 

 

তনয় শাস্ত্রী সে সময়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। ওঁর দাবি, সমস্ত ভিডিও ফুটেজ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন আইসি ওঁর অভিযোগ নেননি। পরবর্তীতে আইনজীবী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির উপস্থিতিতে তিনি বনগাঁ আদালতে মামলা করেছিলেন।

তনয়ের স্পষ্ট বক্তব্য -

দেরিতে অনুষ্ঠানে আসা: মিমি চক্রবর্তী নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

টাকা ফেরত ও মানহানি: সঠিক সময়ে না আসায় ওঁর পারিশ্রমিকের টাকা ফেরত এবং তনয়ের সামাজিক সম্মানহানি করার অপরাধে ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

জনসমক্ষে ক্ষমা: মিমিকে জনসমক্ষে এসে ওঁর করা ‘মিথ্যা’ হেনস্থার অভিযোগের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রসঙ্গত, বনগাঁ নয়াগোপালগঞ্জে যুবক সংঘের পরিচালনায় বাৎসরিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সেখান থেকে ফিরেই তিনি অভিযোগ করেন যে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে তিনি হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে সরব হন তিনি।
তবে ক্লাবের সদস্যরা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। ওঁদের দাবি ছিল, রাত ১২টা পর্যন্ত পুলিশের পারমিশন থাকা সত্ত্বেও মিমি নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা পরে মঞ্চে ওঠেন এবং তড়িঘড়ি গান শেষ করে চলে যান। উল্টে মিমি বনগাঁ থানায় ক্লাব কর্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে পুলিশ তদন্তে যায়। পুলিশের দাবি ছিল, তদন্তের সময় তনয় শাস্ত্রী সরকারি কাজে বাধা দিয়েছিলেন, যার জেরে তাঁকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। সেই সময় মিমি চক্রবর্তী নিজে বনগাঁ মহকুমা আদালতে এসে গোপন জবানবন্দিও দিয়ে গিয়েছিলেন।

সরকার বদলের পর বনগাঁ থানায় মিমির বিরুদ্ধে এই বিষয়টি নিয়ে নানান গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনাটি নিয়ে অভিনেত্রীর আপ্ত সহায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আজকাল ডট ইন-কে কে ফোনে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠিয়েছেন - “এরকম কোনও খবর বা বিষয় এখনও পর্যন্ত আমাদের জানা নেই।”