টলিউড অভিনেতা জীতু কমলের  সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকেই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে অভিনেত্রী নবনীতা দাসের জীবন। কখনও ওঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সমাজমাধ্যমে কাটাছেঁড়া হয়েছে, তো কখনও ওঁর বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে উঠেছে হাজারো প্রশ্ন। তবে নিন্দুকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নবনীতা যে ওঁর এই নতুন জীবনটা নিজের শর্তে চুটিয়ে উপভোগ করছেন, তার প্রমাণ মিলল সোমবার রাতে। মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী পাঁচতারা হোটেল ‘তাজ’ -এর লাক্সারি রুমের বিছানা থেকে একগুচ্ছ ‘বোল্ড’ ছবি পোস্ট করে নেটপাড়ার তাপমাত্রার পারদ এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিলেন অভিনেত্রী!


সোমবার রাতে পোস্ট করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এলোমেলো শ্বেতশুভ্র রঙের বিছানায় স্রেফ একটা সাদা চাদর গায়ে জড়িয়ে পোজ দিয়েছেন নবনীতা। ক্যামেরার দিকে পিছন ফিরে সম্পূর্ণ অনাবৃত পিঠ দেখিয়ে ওঁর এই বোল্ড অবতার দেখে চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের। ছবিগুলো পোস্ট হতেই কমেন্ট বক্সে লাইক ও প্রশংসার পাশাপাশি ধেয়ে এসেছে তীব্র কটাক্ষ ও যৌনগন্ধী মন্তব্য।

পোস্টের নিচে একদল নেটিজেন অবলীলায় প্রশ্ন তুলেছেন, “তোমার ক্যামেরাম্যান কে ছিল?” কেউ আবার লিখেছেন, “ক্যামেরাম্যানের কী অবস্থা হয়েছিল কে জানে!” গরমের তীব্রতা টেনে একজন রসিকতা করে লিখেছেন, “উফ! এত গরম পড়েছে বলেই কি এই দশা?” তবে সবচেয়ে বড় চর্চা শুরু হয়েছে অন্য একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। একজন সরাসরি দাবি করে বসেছেন, “এ তো পুরো দেবচন্দ্রিমা সিংহ রায়কে নকল করে ফটোশুট!” (উল্লেখ্য, অভিনেত্রী দেবচন্দ্রিমাও অতীতে প্রায় একই ধরণের বোল্ড ফটোশুট করে চর্চায় এসেছিলেন)।

 


নবনীতাকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে ট্রোল হওয়া অবশ্য নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেই একটি নামী ব্রান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি কিনে নেটপাড়ায় চরম কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছিল ওঁকে। প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের একটি চকচকে ‘মার্সেডিজ বেঞ্জ’ কেনেন তিনি। সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল— যেখানে হাতে বিশেষ কোনও বড় কাজ নেই, সেখানে কোটি টাকার গাড়ি কেনার রসদ বা টাকা আসছে কোথা থেকে? সেই সময়েও অনেকে নোংরা ও যৌনগন্ধী ইঙ্গিত করতে ছাড়েননি। তবে নিন্দকদের পাল্টা জবাব দিয়ে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে রাজি হননি ‘মা তারা’।

 

‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ ধারাবাহিকে ‘মা তারা’র চরিত্রে অভিনয় করে বাংলার ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠেছিলেন নবনীতা। তবে বিচ্ছেদের পর স্টার জলসার ‘তুমি আশেপাশে থাকলে’ মেগা সিরিয়ালে শেষবার পর্দায় দেখা গিয়েছিল ওঁকে। তারপর থেকে প্রায় দু’বছর ছোটপর্দায় ওঁর দেখা মেলেনি। স্টুডিও পাড়ায় গুঞ্জন রটেছিল, নবনীতার হাতে নাকি কোনও কাজ নেই!

তবে এই গুঞ্জনে জল ঢেলে অভিনেত্রী নিজেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু টাকার জন্য বা স্রেফ পর্দায় মুখ দেখানোর জন্য তিনি যেকোনও  চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি নন। তাছাড়া, ছোটপর্দায় নিয়মিত না দেখা গেলেও নবনীতা কিন্তু মোটেও বসে নেই। 


ইনফ্লুয়েন্সার কেরিয়ার: সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ওঁর পরিচিতি ও ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট দিন দিন বাড়ছে।

নতুন ব্যবসা: বন্ধুদের সঙ্গে মিলে বেঙ্গালুরুতে একটি নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন নবনীতা। সেই সুবাদে প্রায়ই ওঁকে বেঙ্গালুরু যাতায়াত করতে হয়।

পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দামি গাড়ির মালকিন নবনীতার কাছে অভিনয় এখন আর একমাত্র ‘প্রায়োরিটি’ নয়। তিনি এখন নিজের মর্জির মালকিন, আর মুম্বইয়ের তাজের এই বোল্ড ছবিই যেন ওঁর সেই বিন্দাস লাইফস্টাইলের শেষ কথা!