গত কয়েকদিন ধরে বিজয় দেবেরাকোন্ডা আর রশ্মিকা মান্দানার বিয়ে নিয়ে চলছে বিপুল চর্চা৷ ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে রাজকীয় ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বিজয়-রশ্মিকার বিবাহ-অনুষ্ঠান। গতকাল ৪ মার্চ হায়দরাবাদের তাজ কৃষ্ণ বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ উদযাপন৷ 

রীতি রেওয়াজ ঐতিহ্যই প্রাধান্য পেয়েছে বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের সমস্ত অনুষ্ঠানে৷ উদয়পুরে রাজকীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে বিজয়-রশ্মিকা যে ভারী ভারী টেম্পল জুয়েলারি পরেছিলেন তাই নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিজয়-রশ্মিকার বিয়ের আংটিও নজর কেড়েছে সকলের। 

বিজয় এবং রশ্মিকা একইরকম দেখতে আংটি পরেছেন অনামিকায়৷ তাদের বিয়ের আংটিতে আছে টিফানির ১৬ টি হীরে৷ সোনা আর প্ল্যাটিনামের ব্যান্ডের সঙ্গে ১৬ টি হীরে বসানো রয়েছে আংটিতে৷ টিফানির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এক একটি আংটির আনুমানিক মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা। 

টিফানির ১৬ টি হিরে বসানো আংটি আসলে ভালবাসার আভ্যন্তরীণ শক্তির প্রতীক৷ ১৯৫৯ সালে জিন স্লমবার্গার নামক এক বিখ্যাত ডিজাইনার এই আংটির নকশা প্রস্তুত করেছিলেন৷ সোনার এক্স ডিজাইনের মধ্যে বসানো থাকে গোল গোল হিরে৷ এটাই এর বিশেষত্ব৷ 

'কাপল রিং'- এর ট্রেন্ডে গা না ভাসিয়ে বিজয়-রশ্মিকা যে একইরকম দেখতে আংটি বেছে নিয়েছেন তা সত্যিই অনন্য৷ ভারতীয় পুরুষেরা সাধারণত বিয়ের আংটি হিসাবে সাধারণ সোনার ব্যান্ড পরে থাকেন৷ সেদিক থেকেও বিজয়-রশ্মিকা সোনা আর হিরেকে একত্রে বেছে নিয়ে ঐত্যিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন৷ 

বিয়ের গয়নার ক্ষেত্রেও নতুন ভাবনার দিশা দেখালেন বিজয়-রশ্মিকা৷ তাঁদের বিয়ের জন্য  টেম্পল জুয়েলারি বানাতে সময় লেগেছে ১০ মাস৷ শুধু বিয়ের কনেকেই সোনায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে তা নয়, বরবেশে  বিজয়ও পরেছেন ঐতিহ্যবাহী সোনার ভারী গয়না৷ বরবেশে নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করেছেন বিজয়৷ বলিউডি বিয়ের প্যাস্টেল রঙের স্রোতের বিপরীতে হেঁটে বিজয়-রশ্মিকা বেছে নিয়েছিলেন প্রেমের ঐতিহ্যবাহী লাল-কমলা রঙ।