দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রয়াত হয়েছেন সেদেশের অন্যতম বর্ষীয়ান অভিনেতা আন সুং-কি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। অভিনেতার প্রয়াণে শুধু কোরিয়াই নয়, গোটা এশিয়ার চলচ্চিত্র মহল শোকস্তব্ধ।

জানা গিয়েছে, গত বছরের শেষের দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আন সুং-কি। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আইসিইউ-তে চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সোমবার ভোরে প্রয়াত হন তিনি। 

প্রয়াত এই অভিনেতা দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য নাম। মাত্র ৫ বছর বয়সে অভিনয়জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর প্রায় ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সিনেমা, টেলিভিশন ও মঞ্চে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। শিশু অভিনেতা থেকে শুরু করে চরিত্রাভিনেতা, সব ক্ষেত্রেই তাঁর অভিনয় ছিল সমানভাবে প্রশংসিত।

তাঁর অভিনীত বহু ছবি কোরিয়ান সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। সংবেদনশীল সামাজিক ছবি থেকে শুরু করে দেশপ্রেম, পারিবারিক গল্প কিংবা বাস্তবধর্মী চরিত্র, সব ধরনের ভূমিকাতেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং চরিত্রের গভীরতা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

শুধু অভিনয় দক্ষতার জন্যই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, শালীন ও বিতর্কহীন। কোরিয়ায় তাঁকে প্রায়ই ‘জাতির অভিনেতা’ বলে সম্বোধন করা হত। তরুণ অভিনেতাদের কাছেও তিনি ছিলেন এক আদর্শ ও অনুপ্রেরণা। অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য পুরস্কার ও সংবর্ধনা পেয়েছেন। দেশীয় চলচ্চিত্র উৎসব থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, জনপ্রিয়তা নয়, নিরবচ্ছিন্ন ভাল কাজই একজন অভিনেতাকে অমর করে তোলে।

 স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গিয়েছেন আন সুং-কি। তাঁর মৃত্যুতে ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকপ্রকাশ করছেন। কোরিয়ার বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণসভা ও শোকবার্তা জানানো হচ্ছে।