নয়ের দশক থেকে বলিউডের তারকাদের একেবারে কাছ থেকে দেখেছেন যিনি, তিনি এইমুহূর্তে ইন্ডাস্ট্রি অন্যতম জনপ্রিয় পাপারাজ্জি বরিন্দর চাওলা। সম্প্রতি এক কথোপকথনে সঞ্জয় দত্তকে ঘিরে একাধিক অজানা, রঙিন স্মৃতি ভাগ করে নিলেন বরিন্দর। সেই স্মৃতিতে যেমন আছে ‘বাবা’-র দাপুটে উপস্থিতি, তেমনই আছে এক অপ্রত্যাশিত মানবিক মুহূর্তও।
বরিন্দরের কথায়, শুটিং চলাকালীন প্রায়ই পাপারাজ্জিদের ডাকতেন সঞ্জয় দত্ত। “অনেক সময় শুটের মাঝে বাবা আমাদের ডেকে বলতেন, ‘অ্যাই, এদিকে আয়… তুই কি মদ খাস?’ আমরা বলতাম এখন তো কাজ করছি, তাই মদ- টদ খাব না। কিন্তু উনি জোর করতেন, ‘আমার মনে হচ্ছে তুই খাস, তোর খেতে ইচ্ছে করছে...’ বাকিরাও তখন ওঁকে সায় দিত। তখন আর উপায় থাকত না,” হাসতে হাসতে বলেন বরিন্দর।
এই পাপারাজ্জির দাবি, সঞ্জয় দত্তের তারকা-আভিজাত্য এমন জায়গায় ছিল যে, মদ না খাওয়া লোকজনও শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বসে পানীয়র গ্লাস তুলতেন। “ওঁর বাড়ির বাইরেও আমরা বসে বসে একসঙ্গে খেয়েছি,” যোগ করেন তিনি।
তবে শুধু দাপুটে স্মৃতিই নয়, বরিন্দরের জীবনে সঞ্জয় দত্ত একবার হয়ে উঠেছিলেন কার্যত ‘ত্রাতা’। পেশাগত জীবনের শুরুর দিকে একটি সেকেন্ড-হ্যান্ড মারুতি জেন কিনেছিলেন তিনি। একদিন ফিল্মিস্তানে সঞ্জয় দত্তের শুট কাভার করার পর বেরোতে গিয়ে ভুলবশত তাঁর ভ্যানিটি ভ্যানে ধাক্কা মেরে বসেন বরিন্দর।
“ওঁর লোকজন সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ধরে টাকা চাইতে শুরু করল। যে ক্ষতির কথা বলছিল, তার ধারে-কাছেও আমার গাড়ির দাম নয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম, মার খাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা,” স্মৃতিচারণে বলেন তিনি। ঠিক সেই সময় নীচে নেমে আসেন সঞ্জয় দত্ত। পুরো ঘটনা শুনে তিনি শুধু বলেন, “ওকে যেতে দাও।” বরিন্দরের কথায়, “সেই মুহূর্তে উনি আমার কাছে একেবারে মসিহা হয়ে উঠেছিলেন। মানুষ হিসেবে উনি বরাবরই খুব ঠান্ডা। একদম চিল থাকেন!”
এদিকে পেশাগত দিক থেকে সময়টা দারুণ যাচ্ছে সঞ্জয় দত্তের। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে কার্যত ঝড় তুলেছে। বিশাল স্কেল ও টানটান গল্পে ভর করে ছবিটি বিশ্বজুড়ে ১,১০০ কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়েছে। বর্তমানে এটি বলিউডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ছবি, শীর্ষে রয়েছে শুধুই আমির খানের দঙ্গল।
যদিও ‘ধুরন্ধর’-এ সঞ্জয় দত্তের উপস্থিতি ছিল সংক্ষিপ্ত, তবে সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর ২’-এ তাঁর চরিত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেই ইন্ডাস্ট্রি সূত্রের খবর। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ১৯ মার্চ, ২০২৬-এ, যেখানে বক্স অফিসে মুখোমুখি সংঘর্ষ হবে যশের ‘টক্সিক’-এর সঙ্গে। আর যাঁরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ধুরন্ধর দেখতে পারেননি, তাঁদের জন্য সুখবর, চলতি মাসের শেষের দিকেই ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে নেটফ্লিক্সে।
