পশ্চিম এশিয়ায় চলতি যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে রেকর্ড দুর্বলতার মুখে পড়েছে ভারতীয় টাকা। বুধবার এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে টাকা ৯২-এর গণ্ডি পেরিয়ে যায়, যা ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্তর।
2
10
যদিও বৃহস্পতিবার কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে—বাজারে ধারণা, এই স্থিতি এসেছে আরবিআই-এর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের জেরে—তবু বিশ্লেষকদের মতে, টাকার উপর চাপ এখনই কাটছে না।
3
10
পশ্চিম এশিয়া বিশ্ব তেল উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু। এই অঞ্চলে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিলেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ভয় তৈরি হয়, আর তার প্রভাব পড়ে দামে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ লাফিয়ে ব্যারেল প্রতি ৭৬ থেকে ৭৮ ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে।
4
10
ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল কেনাবেচা হয় মার্কিন ডলারে। ফলে তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে বেশি ডলার কিনতে হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং টাকার ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়।
5
10
সহজ ভাষায় বললে, তেলের দাম বাড়া মানেই টাকার দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের আমদানি বিল বাড়িয়ে দেয় এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রশস্ত করে। যখন দেশে প্রবেশ করা ডলারের তুলনায় বেশি ডলার বাইরে চলে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দেশীয় মুদ্রা দুর্বল হয়।
6
10
পশ্চিম এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার জেরে তেলের দাম আগুন হয়েছে, যা টাকার পতনের প্রধান কারণগুলির একটি।
7
10
টাকা প্রায় ০.৫৫ শতাংশ দুর্বল হয়ে ৯২.১০-এর কাছাকাছি লেনদেন করেছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক বহিঃখাত ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
টাকার উপর চাপের আরেকটি বড় কারণ হল শক্তিশালী মার্কিন ডলার। বিশ্বের অস্থিরতার সময়ে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন, যেমন মার্কিন সরকারি বন্ড বা ডলার। এই প্রবণতাকে ‘রিস্ক-অফ’ মনোভাব বলা হয়।
8
10
যখন বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বা বন্ড বিক্রি করে অর্থ দেশে ফেরত নেন, তখন তারা টাকাকে ডলারে রূপান্তর করেন। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা আরও বাড়ে এবং টাকা দুর্বল হয়।
9
10
যদিও বৃহস্পতিবার কিছুটা স্বস্তি মিলেছে, বিশেষজ্ঞদের মতে পরিস্থিতি এখনও ভঙ্গুর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে যদি ডলার শক্তিশালী অবস্থানে থাকে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিক্রি চালিয়ে যান, তবে টাকার উপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
10
10
সব মিলিয়ে বলা যায় টাকার সাময়িক স্থিতি বাজারে স্বস্তি আনলেও, তেল ও বিশ্বের অনিশ্চয়তা না কমা পর্যন্ত মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কাই বেশি।