বহু বাধা ও বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে চার হাত এক হল গোরা ও এলার। মৈনাকের একের পর এক ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে নতুন করে সংসার শুরু করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই নতুন অধ্যায়েও যে সুখের ছোঁয়া নেই, তার ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। কারণ বিয়ে আটকাতে না পারলেও গোরার মনে এলাকে ঘিরে ঘৃণার বীজ বুনতে সফল হয়েছে মৈনাক।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সে নিজের বোনকে সে এমন কিছু কথা বলে, যা শুনে স্ত্রীর প্রতি গভীর অবিশ্বাস জন্মায় তাঁর মনে। মৈনাকের দাবি, এলা নাকি তাকেই ভালবাসে। শুধু তাই নয়, লাঞ্চবক্সে ভরে ভরে চিঠিও দিয়েছে তাকে। এলার বিষয়ে এসব শুনে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে গোরা, আর দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে ওঠে।
এলাকে নিয়ে শোনা কথায় ভেঙে পড়ে হতাশ গোরা। সেই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেই বিয়ের সাজেই সে পৌঁছে যায় এক নির্জন ফেরিঘাটে। তখনও তার শরীরে নববিবাহিতের পোশাক, অথচ মনে ঘন অন্ধকার। ঠিক সেই সময় মৈনাকের ভাড়া করা দুষ্কৃতীদের নজরে পড়ে যায় গোরা। হাতে অস্ত্র নিয়ে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর।
হঠাৎ হামলার মাঝে গোরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় এক নারী। মুখ ঢাকা, পরনে শাড়ি, অজানা সেই উপস্থিতি মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলে দেয়। কিছুক্ষণ পরেই প্রকাশ পায় সত্যি। ওই নারী আর কেউ নয়, গোরার সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী এলা। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতেই ঠিক সময়েই সেখানে হাজির হয় সে।
কিন্তু গোরা যেন নিজেকে শেষ করে দিতে চায়। মৈনাক চায় যেন গোরা আর বাড়িতে না ফেরে। তার ষড়যন্ত্রেই এই হাল গোরা ও এলার। এদিকে, এলা গোরাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। গোরা তাকে অপমান করলেও সে কোনও কথা শোনে না। গোরাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগেই এলার কাঁধে ঢলে পড়ে গোরা। শরীর অসার হয়ে যায় তার। এবার কী করবে এলা? ফের কোন বিপদের মুখে পড়বে তারা? জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ধারাবাহিকের আগামী পর্বে।
এদিকে, ফুলশয্যার ঘরে ঢুকেই এলার হাতে ডিভোর্স পেপার ধরিয়ে দেয় গোরা। এলা অবাক হয়ে যায় গোরার কাণ্ড দেখে। কিন্তু গোরা এলাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মিথ্যে সম্পর্কে সে এলাকে রাখতে চায় না। তাই বিয়ের ছ'মাসের মধ্যেই ডিভোর্স দিয়ে মুক্ত করে দেবে সে এলাকে।
গোরার কথায় অবাক হলেও এলাও মুখ খোলে। সে জানায়, নিশ্চয়ই তার মতো গোরার মনেও কোনও আঘাত আছে। যা সে লুকিয়ে রাখে সবার চোখের আড়ালে। এই ছ'মাসের মধ্যে এলা গোরাকে তার ভালবাসার প্রতি বিশ্বাস জাগাবে বলে কথা দেয়। এলার কথার জবাবে কিছু বলতে পারে না গোরা। বোঝা যায়, সে-ও অপেক্ষা করতে রাজি, শুধু মুখে কিছু বলতে চায় না।
এলা-গোরার ফুলশয্যার এই কাহিনি দেখে দারুণ উত্তেজিত দর্শক। কারণ, গল্পের নতুন মোড়ে এবার একটু একটু করে কাছাকাছি আসবে নায়ক-নায়িকা। আর সেই পর্বগুলো আরও বেশি আকর্ষিত করে দর্শককে। এবার টিআরপিতেও এর প্রভাব পড়বে কিনা এখন সেটাই দেখার।
