বনলতা ও লাজুকে নিয়ে ফের হুলস্থুল কাণ্ড অনুভবের বাড়িতে। এদিকে, হঠাৎ উপস্থিত সুদেবও। কোন মোড় আসতে চলেছে এবার? জানতে আজকাল ডট ইন পৌঁছে গিয়েছিল জি বাংলার ধারাবাহিক 'কনে দেখা আলো'র শুটিং ফ্লোরে, ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে। 

 

অনুভব না সুদেব, কাকে বেছে নেবে লাজু?

 

দুপুরের চড়া রোদ, আর তার মধ্যেই শুটিংয়ের তোড়জোড়। সবে লাঞ্চ করে উঠেছে অনুভব,লাজু ও বনলতা। খেয়ে উঠে একই মেকআপ রুমে একটু আড্ডা চলছে। এর মধ্যেই ফ্লোরে এসে পৌঁছায় সুদেব। তবে তখনও ঠিক সুদেব নয়, বরং বলা ভাল অভিনেতা মৈনাক ঢোল এসেই মেকআপ রুমে ঢোকেন। চোখের রোদচশমা খুলে, ছাপোষা পোশাক পড়ে আর মেকআপ দিয়ে ট্যাটু ঢেকে এবার তৈরি সুদেব। লাজু, বনলতা ও অনুভবের ক্লোজআপ শট চলছে। সেই ফাঁকে একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন মৈনাক। এরপর ফ্লোর থেকে লাজু ও অনুভব বেরতেই আমাদের ক্যামেরার মুখোমুখি। তখন তাঁরা সাইনা চ্যাটার্জি ও সোমরাজ মাইতি। 

 

মিষ্টি হাসি দিয়ে সাইনা বুঝিয়ে দেয়, কিশোরী বয়সের চাঞ্চল্য তার মধ্যে ভরপুর। এই মুহূর্তে ধারাবাহিকে টানটান উত্তেজনা, লাজু শেষমেশ কাকে বেছে নেবে অনুভব না সুদেব? প্রশ্ন শুনে সোমরাজের দিকে তাকায় সাইনা। মুচকি হেসে বলে, "অবশ্যই ওর অনুভবকেই বেছে নেওয়া উচিত। সুদেবের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওকে লাজু ভালবাসে না। যাকে সত্যিই ভালবাসে তার কাছেই যাওয়া উচিত।" পাশে দাঁড়িয়ে মন দিয়ে সাইনার কথা শোনে সোমরাজ। এই যে না বলা প্রেম, এর অনুভূতিটা আপনার কখনও হয়েছে? এক মুহূর্ত না ভেবে, সোমরাজের জবাব, "বহুবার। নিজের সঙ্গে তো হয়েছেই। কাউকে ভাললাগা অবধি ঠিক আছে, কিন্তু সেই ভাললাগার কথা বলাটাই চাপের। ভয় থাকে, যদি বন্ধুত্ব ভেঙে যায়! তবে ওই অনুভূতিটা খুব স্পেশাল।" লাজু-অনুভবের এই সম্পর্কটাকে জেন-জি ভাষায় কী বলে? একটু ভেবে সাইনা বলেন, "সিচুয়েশনশিপ?" বাধা দেয় সোমরাজ, বুঝিয়ে দেয় 'সিচুয়েশনশিপ' মানে এই সম্পর্কে কেউ কারওর প্রতি দায়বদ্ধ নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই, আছে শুধু শারীরিক কিংবা মানসিক ঘনিষ্ঠতা। তাঁদের সম্পর্ক এসব কিছু থেকে একেবারে আলাদা তাই তাঁদের সম্পর্কের কোনও নাম নেই।

 

ভিন্ন মেরুর টান

সম্পর্কের আরেক মেরুতে রয়েছে 'সুদেব' ওরফে মৈনাক ঢোল। সোমরাজ-সাইনা কথার মাঝে মৈনাক দেখে যেন একপ্রকার দলে টেনে নেন। খুনসুটি,মজা চলতে থাকলেও সিনে ডাক পড়ে সোমরাজ-সাইনার। এর মধ্যেই ফ্লোর থেকে বেরোন 'বনলতা' ওরফে অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত। সুদেব-বনলতাকে একফ্রেমে অনেকদিন পর ধরা গেল। তাদের কি কখনও একসঙ্গে দেখবেন দর্শক? প্রশ্ন শুনে নন্দিনী বলেন, "তাহলে তো গল্পটা খুব প্রেডিক্টেবল হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা মনে হয় না আর হবে বলে।" মৈনাকও বলেন, "হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়, কারণ শুরু থেকেই তো টিচারদিদি বলে ডেকে এসেছি। আমাদের মধ্যে ওরকম কিছু নেই।" সুদেব যেদিন জানতে পারবে লাজু কলকাতায় গিয়ে পড়াশোনা ছাড়াও প্রেম করছে, তখন কী হবে? মৈনাকের জবাব, "তখন সুদেব মাটির নিচে ঢুকে যাবে মনে হয়। সহ্য করতে পারবে না একদম।" 'বনলতা'র চরিত্রটা নন্দিনী কীভাবে দেখেন? এইরকম পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতেন? একটু চুপ থেকে নন্দিনী বলেন, "এটা ভাবিই না যে আমার সঙ্গে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কারওর জীবনেই যেন না আসে। এই চারজনের জীবনটা বড্ড এলোমেলো। নিজের মনের সঙ্গে লড়াইটা অনেক বেশি। তাই বনলতাও তার দিক থেকে ঠিক। কিন্তু আমি ভাবতেও পারি না নিজের জীবনে এমন পরিস্থিতির কথা।"

গরমে মেকআপ প্রায় গলে যাওয়ার জোগাড়। অন্যদিকে, স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করতে হবে। তাড়া দিচ্ছেন ফ্লোর ম্যানেজার। তাই আড্ডা এখানেই থামাতে হল।