২০১৬ থেকে ২০২৬, এক দশকের রাজনৈতিক জীবন৷ জিতলে হ্যাটট্রিক করতেন ইন্দ্রনীল৷ কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে ইন্দ্রনীল এখন চন্দননগরে 'দূরের বলাকা'।
বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন কুমার গুহর কাছে পরাজিত হলেন তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেন৷ ১৮ রাউন্ড গণনার শেষে তৃণমূলের ব্যবধান ১২,৪১১। আর দুই রাউন্ড গণনা বাকি৷ ২ রাউন্ডে এই ব্যবধান মেটানো সম্ভব নয়৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসা রাখতে পারলেন না ইন্দ্রনীল৷ ২০২৬ এর নির্বাচনে ইন্দ্রনীলের প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন কুমার গুহ, বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী মণীশ পন্ডা এবং কংগ্রেস প্রার্থী রতন কুমার গোল্ডার৷
২০২১ সালে ৮৬,৭৭৮ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থীকে ৩১ হাজার ভোটে হারান ইন্দ্রনীল।
২০১৬ সালে প্রথমবার জিতেছিলেন ইন্দ্রনীল৷ সেবার লড়াই কঠিন ছিল কিন্তু তারপর এক দশকে চন্দননগরকে সাজানোর দায়িত্ব নিয়ে আলোর শহরের কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন ইন্দ্রনীল।
তৃণমূল জমানায় নেতানেত্রীদের জয়ের ব্যবধানে থাকে নজির৷ ইন্দ্রনীল সেন সেই ব্যতিক্রম যিনি হেরেও মমতার মন জয় করেছিলেন৷ ২০১৪ সালে বহরমপুরে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিপক্ষে ভোটে দাঁড়িয়ে সাড়ে তিন লক্ষ ভোটে হেরে শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল ইন্দ্রনীলের৷ এই হার ইন্দ্রনীলকে দিদির কাছে 'দূরের বলাকা' বরং দিদির 'কাছের মানুষ' হয়ে ওঠেন৷
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন ছিল বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়৷ এক দশকের বেশি রাজনৈতিক কেরিয়ারের পরেও নিজেকে গায়ক বলতেই বেশি পছন্দ করেন ইন্দ্রনীল। চন্দননগরের মানুষের কাছে নিজেকে পরিচয় দেন 'চন্দননগরের বন্ধু' বলে৷ কিন্তু বছর দশেকের বন্ধুত্ব ভাঙল। হেরে গেলেন ইন্দ্রনীল সেন৷















