উদিত নারায়ণ বিগত কয়েক বছরে একাধিক বার নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন, কখনও চুমু কাণ্ডে, কখনও প্রাক্তন স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে। এবার গায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন তাঁর প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা ঝা। 

কী জানা গিয়েছে? উদিত নারায়ণের প্রথম স্ত্রী রঞ্জনা ঝা সম্প্রতি জানিয়েছেন, গায়ক তাঁকে না বলেই তাঁর জরায়ু বাদ দিয়ে দেন। আর এই মর্মে বিহারের সুপলের মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগেই রঞ্জনা জানিয়েছেন যে গায়ক প্রায় তিন দশক আগে তাঁর অনুমতি ছাড়াই তাঁর জরায়ু বাদ দিয়ে দেন। 

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিযোগে রঞ্জনা জানিয়েছেন ১৯৮৪ সালের ৭ ডিসেম্বর উদিত নারায়ণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ে করে স্ত্রীকে সেখানে ফেলে রেখে মুম্বই চলে যান উদিত নিজের কেরিয়ার গড়তে। পরবর্তীতে রঞ্জনা খবরের কাগজ থেকেই জানতে পারেন মুম্বইয়ে আবার দীপা নারায়ণ নামক এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন উদিত নারায়ণ, তাও তাঁকে ডিভোর্স না দিয়েই। তিনি যখন এই বিষয়ে উদিতকে জিজ্ঞেস করেন তখন লাগাতার তাঁকে ভুল বোঝানো হয়। ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়।

রঞ্জনা তাঁর অভিযোগে আরও জানান, ১৯৯৬ সালে তাঁর সঙ্গে একটি অনভিপ্রেত এবং ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। তাঁর কথা অনুযায়ী, উদিত এবং তাঁর দুই ভাই সঞ্জয় কুমার ঝা এবং ললিত নারায়ণ ঝা দিল্লির একটি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যান। সঙ্গে দীপাও ছিলেন। রঞ্জনার অভিযোগ সেই সময় অস্ত্রোপচার করে তাঁর জরায়ু বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তাও তাঁকে না জানিয়েই। অনুমতি না নিয়েই। রঞ্জনা গোটা বিষয়টা বেশ কয়েক বছর পর অন্য এক অসুস্থতার সময় চিকিৎসা করাতে গিয়ে জানতে পারেন। 

রঞ্জনা তাঁর অভিযোগে এও জানিয়েছেন ২০০৬ সালে যখন তিনি মুম্বই এসেছিলেন তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন উদিত নারায়ণ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী দীপা। তিনি জানিয়েছেন এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন আদালতে এবং মহিলা কমিশনে। কিন্তু ন্যায় বিচার পাননি। তাই পুনরায় আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁরা এই বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। প্রায় ৩ দশক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। এফআইআর দায়ের করা হবে, তদন্ত এগোনোর পর। তবে এই বিষয়ে এখনও উদিত নারায়ণের তরফে কিছু জানানো হয়নি।