চলে গেলেন জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অ্যানিমি পরিচালক সুতোমু শিবায়ামা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর পরিচালনায় 'ডোরেমন' আজ ৮ থেকে ৮০ এর পছন্দের অ্যানিমি। নবিতা, সিজুকাদের তৈরি করে জনপ্রিয় করেছিলেন যিনি তিনি দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন জীবন যুদ্ধে। ৬ মার্চ সুতোমু শিবায়ামা না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন।
বুধবার, জাপানি অ্যানিমেশন স্টুডিও আজিয়া দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস অর্থাৎ যে সংস্থার অন্যতম মালিক ছিলেন সুতোমু শিবায়ামা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিক ভাবে পরিচালকের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিন তাদের তরফে ঘোষণা করে লেখা হয়, 'প্রাক্তন সিইও সুতোমু শিবায়ামা ৬ মার্চ মারা গিয়েছেন। শিবায়ামা ডোরেমন-এর টিভি অ্যানিমেশন এবং সিনেমার পরিচালক হিসেবে নিরলস ভাবে কাজবকিরেছে গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে। তিনি একই সঙ্গে টিভি অ্যানিমেশন নিন্তামা রান্তারোর জেনারেল ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি তাঁর জীবনকালে যে অবদান রেখে গিয়েছেন তার জন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। ওঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই দুঃসংবাদ আমরা ঘোষণা করছি।'
প্রসঙ্গত, সুতোমু শিবায়ামা ১৯১৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে জাপানের অ্যানিমেশনের অন্যতম প্রাণ পুরুষ বলে মনে করা হয়। তিনি 'ডোরেমন' -এর ২২টি ফিচার ফিল্ম পরিচালনা করেছেন। একই সঙ্গে এই সিরিজের ১৯৭৯ টিভি অ্যানিমির পরিচালনাও করেছেন গত ২০ বছর ধরে।
সুতোমু শিবায়ামা ১৯৬৩ সালে তয়ী অ্যানিমেশনে তাঁর কেরিয়ার শুরুবীরেন। তাঁর প্রথম জীবনের কিছু সেরা কাজের মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য 'দ্য গাস্টি ফ্রগ', 'টেনসাই বাকাবন' সিরিজ, ইত্যাদি। শিন ই অ্যানিমেশনের জন্য তিনি এই কাজগুলো করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি এই সংস্থা ছেড়ে দেন এবং নিজের আজিয়া দো অ্যানিমেশন ওয়ার্কস শুরু করেন। ১৯৮৪ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি 'ডোরেমন' -এর টিভি অ্যানিমি সিরিজের চিফ ডিরেক্টর ছিলেন। 'নবিতা অ্যান্ড দ্য ক্যাসেল আন্ডারসি ডেভিল', 'ডোরেমন: নবিতা ইন দ্য ওয়ান ন্যান স্পেসটাইম ওডিসি' ছবি সহ একাধিক অ্যানিমি ছবির পরিচালনা করেছেন।
এছাড়াও তিনি 'চিবি মারুকো', 'নিন্তামা রান্তারো', 'মাজিমে নি ফুমাজিমে, কাইকেসু জোরোরি' পরিচালনা করেছেন। জাপানের এজেন্সি ফর কালচারাল অ্যাফেয়ার্সের তরফে ২০১২ সালে সুতোমু শিবায়ামাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় অ্যানিমি ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর এই বিপুল অবদানের জন্য।
সুতোমু শিবায়ামার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া 'ডোরেমন' প্রেমীদের মধ্যে। অনেকেই সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন।
