সমাজমাধ্যমে বরাবরই সক্রিয় থাকেন অভিনেত্রী তন্বী লাহা রায়। তাঁকে দর্শক এতদিন দেখছিলেন জি বাংলার ধারাবাহিক 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এ। এই ধারাবাহিকে তাঁকে খলনায়িকা 'মীরা'র চরিত্রে দর্শক দেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ছন্দপতন। কিন্তু কেন? কী এমন হল অভিনেত্রীর সঙ্গে? নিজেই সমাজমাধ্যমে ঘটনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তন্বী।‌

তিনি লেখেন, 'শেষবার মীরা হয়ে লিখছি, ভাবিনি মীরার গল্পটা এইভাবে অসম্পূর্ণ হয়ে থাকবে! এখনও তো অনেক না বলা কথা ছিল, অনেক স্বপ্ন পূরণ হওয়া বাকি ছিল, ভাল হওয়াও বাকি ছিল। তার চোখে ছিল হাজারটা না বলা কথা, সেইগুলো না বলাই থেকে যাবে ভাবিনি। আমায় অনেকদিন দেখা যায়নি বলে তোমাদের যে মেসেজ গুলো পেয়েছি তা সব অনুভব করেছি।'

তন্বী আরও লেখেন, 'তোমরা শুধু মীরাকে দেখনি, তোমরা আপন করে নিয়েছিলে। বিদায় বলা খুব কঠিন, বিশেষ করে গল্পটা যখন শেষ হয় না। কেন মীরাকে বিরতি দিল এইভাবে আমিও জানি না...যাক গে। আমার গল্পটা অসম্পূর্ণই রয়ে গেল।'

তন্বীর এই পোস্টে স্পষ্ট যে তাঁর চরিত্রটি ফুরিয়ে গিয়েছে 'চিরদিনই তুমি যে আমার' থেকে। কিন্তু ঠিক কী কারণে 'মীরা'কে গল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হল তা তন্বীর কাছে অজানা। শুরু থেকেই এই চরিত্রের জন্য জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তন্বী। খল চরিত্র হলেও দর্শক মহলে ব্যাপক পরিচিত ছিল মীরা। তবে ক'দিন ধরেই আর ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। এখন গল্প পুরোপুরি আর্য ও অপর্ণাকে কেন্দ্র করেই এগোচ্ছে। এসেছে আর্য সিংহ রায়ের প্রাক্তন মৃতা স্ত্রী রাজনন্দিনীর ট্র্যাক। কিন্তু হুট করেই যেন ফুরিয়ে গেল বহু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মেয়াদ। তার মধ্যে মীরা অন্যতম। খল নায়িকা হয়েও যে খ্যাতি পেয়েছিলেন তন্বী তা সত্যিই আশ্চর্যজনক। 

'মীরা'র চরিত্রকে বিদায় জানিয়ে তন্বীর করা পোস্ট দেখে আবেগপ্রবণ অনুরাগীরা। সমাজমাধ্যমে তন্বীর নতুন চরিত্র নিয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। 

প্রসঙ্গত, পূর্বজন্মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগোচ্ছে জি বাংলার ধারাবাহিক 'চিরদিনই তুমি যে আমার'। মাঝেমধ্যেই এখন অপর্ণাকে দেখা দেয় রাজনন্দিনী। তবে এবার হঠাৎই ধারাবাহিকের শুটিং ফ্লোরে ভূতের উপদ্রবের সাক্ষী হলেন কলাকুশলীরা! সম্প্রতি, সমাজমাধ্যমে এই ভৌতিক কাণ্ডের কথা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী সৌমিলি দাস। তাঁকে মেগায় অপর্ণার কাছের বান্ধবী 'রুম্পা'র চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। 

সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাগ করে সৌমিলি জানান তাঁরা ভৌতিক কাণ্ডের সাক্ষী। তাঁর কথায়, "প্রথমে আমিও বিশ্বাস করিনি। তবে চোখের সামনে প্রমাণ দেখে আঁতকে উঠতে বাধ্য হয়েছি।" সৌমিলি দেখান তাঁদের মেকআপ রুমের আয়নায় একটা উল্টো পায়ের ছাপ। পায়ের ছাপ দেখে তাঁদের মনে হয়েছে এটা কোনও ছোট বাচ্চার পায়ের ছাপ। শুধু তাই-ই নয়, দুটো উল্টো হাতের ছাপও নজরে পড়ছে। তবে হাতের পাতার ছাপ দেখে তাঁদের অনুমান, এটা কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হাত হতে পারে। কিন্তু মেকআপ রুমের আয়নায় উল্টো হাত-পায়ের ছাপ কেন থাকবে? এমন অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হয়ে বুক দুরুদুরু শুরু হয়েছে কলাকুশলীদের। 

শুধু সৌমিলি নয়, ধারাবাহিকের আরও এক অভিনেতা শ্যামাশিস পাহাড়িও একই দাবি করেছেন। তাঁকে ধারাবাহিকে দর্শক অপর্ণার বাবা 'সতীনাথ'-এর চরিত্রে দেখছেন। এদিন সমাজমাধ্যমে তিনিও একই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।