পেশায় তিনি খ্যাতনামা কেরিয়ার কোচ, কিন্তু নেশা যখন জীবনকে ফ্রেমবন্দি করা, তখন আত্মপ্রকাশেই ছক্কা হাঁকালেন অভিষেক দে সরকার। তাঁর পরিচালিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘ইতি: দ্য বিগিনিং’ বর্তমানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। দেবলীনা দত্ত এবং বিশ্বনাথ বসুর মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে তৈরি এই ছবি ইতিমধ্যেই ঝুলিতে পুরেছে একগুচ্ছ সম্মান।

কলকাতা আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে শুধু মনোনীত হওয়াই নয়, সেরার সেরা নবাগত পরিচালকের মুকুট উঠেছে অভিষেকের মাথায়। শুধু তাই নয়, ইন্দো-দুবাই আন্তর্জাতিক উৎসবেও এই ছবি সেরা শর্ট ফিল্মের তকমা পেয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে বার্লিন— বিদেশের নামী সব চলচ্চিত্র উৎসবেও সাড়া ফেলেছে এই বাঙালি ছবি। এমনকী কান চলচ্চিত্র উৎসবের দৌড়েও রয়েছে ‘ইতি’।


আজকের কর্পোরেট যুগে বাবা-মায়ের কেরিয়ার গড়ার লড়াইয়ে কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব। ‘ইতি’ সেই একাকীত্বের গল্প বলে। ছবির প্রেক্ষাপট আমাদের খুব চেনা। ব্যস্ত বাবা-মা নিজেদের স্বপ্নপূরণে ছুটছেন, আর ঠিক সেই সময়েই অলক্ষ্যে থেকে যাচ্ছে সন্তানের অবুঝ মন। পরিচালক কোনও আঙুল তোলেননি, বরং খুব সংবেদনশীলভাবে বড়দের এক আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।


পরিচালক অভিষেক দে সরকারের কথায়, "দীর্ঘদিন ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, শুধু সাফল্যের পিছনে ছুটলে মনের ভেতর একটা শূন্যতা তৈরি হয়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই আমার এই ছবি। পেশাদার জীবনের ইঁদুরদৌড়ে আমরা যেন বাড়ির ছোট মানুষগুলোর কথা ভুলে না যাই।"


অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত এই ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ। তিনি জানান, চিত্রনাট্যটি পড়েই তাঁর মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর কথায়, "এই ছবি চিৎকার করে কিছু বলে না, বরং কানে কানে এমন এক বার্তা দিয়ে যায় যা দীর্ঘক্ষণ রেশ রেখে যায় দর্শকের মনে।"


‘ইতি: দ্য বিগিনিং’ শুধুমাত্র একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি নয়, বরং আধুনিক সমাজের এক কঠিন বাস্তবের দলিল। বিশ্বমঞ্চে বাংলার এই জয়যাত্রা আগামী দিনে অভিষেক দে সরকারকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

টলিপাড়ায় এখন বদলাচ্ছে গল্প বলার চেনা ঘরানা। পাল্টাচ্ছে পরিচিত ভাবনা। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের ভাঙছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। গল্পের একচেটিয়া ছকের বাইরে দর্শক মনে জায়গা করে নিচ্ছে ভিন্ন ধারার ছবি। এই ছোট ছবিও যে দর্শক মনে জায়গা করে নেবে সেরকমই আশা দর্শকের।