ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতির দীর্ঘ পর্যায় কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের এক শীর্ষ কূটনীতিক জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে সব ধরনের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ভারত।
2
10
সিলেটে ভারতের সিনিয়র কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বলেন, ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা গেছে, বর্তমানে মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে পর্যটনসহ অন্যান্য সব ক্যাটাগরির ভিসাও চালু করা হবে।
3
10
বিডি নিউজ সূত্রে খবর মিলেছে মেডিক্যাল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা এখন দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণ ভিসাসহ অন্যান্য বিভাগও দ্রুত চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
4
10
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর থেকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ওই আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়।
5
10
২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার সরকারকে কর্তৃত্ববাদী হিসেবে দেখা হচ্ছিল এবং বাংলাদেশে একটি অংশের মধ্যে ধারণা ছিল যে নয়াদিল্লি শেখ হাসিনা সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।
6
10
পরবর্তীতে মহম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। ওই সময় ভারতবিরোধী বক্তব্য ও প্রচার তীব্র আকার ধারণ করে। ভারতের অভিযোগ ছিল, ভারতবিরোধী উগ্রপন্থি ও উসকানিদাতাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
7
10
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করতে শুরু করে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
8
10
তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশই এখন পারস্পরিক স্বার্থে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীরভাবে সংযুক্ত।
9
10
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
10
10
চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর এই উদ্যোগ দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে নতুন করে গতি দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে।