সম্প্রতি, বড়পর্দায় ‘দি একেন: বেনারসে বিভীষিকা’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে অভিনেতা ঋষভ বসু-কে। আগামী আগস্টে শার্লক হোমসের আদলে তৈরি ‘সরলাক্ষ হোমস’ ছবিতে মুখ্যভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। ছবির প্রচার নিয়ে  শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। এসবের মাঝেই অভিনেতার বাড়িতে আগমন নতুন অতিথির। বলা ভাল, এখন থেকে তিনি ঋষভের বাড়ির পাকাপাকি বাসিন্দা-ই!  খুলেই বলা যাক বিষয়টা। নতুন পোষ্য ঘরে এনেছেন ঋষভ। একটি পার্সিয়ান বিড়াল!

 

 

নাম শুনে আন্দাজ করাই যায় যে পারস্য দেশে এই প্রজাতি বিড়ালের জন্ম। তবে এ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে।  যাক, সে কথা। পশমের মতো লম্বা লোমযুক্ত এই বিড়ালের প্রজাতিকে সিনেমার গোয়েন্দা চরিত্র জেম্‌স বন্ড থেকে শুরু করে হ্যারি পটার - একাধিক বিখ্যাত হলিউড ছবিতে দেখা গিয়েছে। তা সব ছেড়ে বিড়াল কেন? আর পার্সিয়ান বিড়াল-ই বা কেন পছন্দ 'শ্রীকান্ত'র? আজকাল ডট ইন-কে এক গাল হেসে অভিনেতা বললেন, “ছোট থেকেই আমার পশুপাখি খুব পছন্দের। মায়ের কাছে শুনেছি, ছোটবেলায় যখন ভাত খেতে চাইতাম না, আমাকে সিঁড়ির বারান্দায় বসিয়ে এক গ্রাস খাবার খাওয়াত তারপর পাড়ার কুকুরদেরও মা খাওয়াত। ওদের দেখে দেখে, প্রায় ওদের কাছাকছি বসে তখন আমি মনের আনন্দে খেতাম। একটু বড় হতে পাড়ার কোনও কুকুরছানা ড্রেনে পড়ে গিয়েছে দেখলে কিংবা চোট পেয়েছে চোখে পড়লে বাড়ি নিয়ে আসতাম। বিড়ালও খুব ভাল লাগত।”

 

 

“আমার বাড়িতে কম করে ৫০টি বিড়াল বড় হয়েছে। কোনওটিকে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আমি এনেছিলাম আর বাকিরা কীভাবে যেন খোঁজ  পেয়ে আমাদের বাড়িতে হাজির হয়ে যেত। তারপর থেকেও যেত। প্রথম যে বিড়ালটিকে রাস্তা থেকে এনে পুষেছিলাম, তার নাম রেখেছিলাম পুষি-ম্যান!” বলতে বলতে হেসে ফেলেন ঋষভ। 

 


“আসলে পার্সিয়ান বিড়ালের শখ ছিল অনেকদিনের। আমার একজন শুভাকাঙ্খী এই বিড়াল আমাকে উপহার দিয়েছে। 'কিনিনি'! কারণ পশু 'কেনা ' শব্দটাতেই আমার বড্ড আপত্তি আছে। আমরা কি কখনও বলি, মানুষের বাচ্চা কিনেছি? তখন তো বলি অ্যাডপ্ট করেছি। তাহলে? তাই আমি বলব 'সুফি'কে আমি অ্যাডপ্ট করেছি। ও হ্যাঁ, আমার নতুন পোষ্যের নাম রেখেছি 'সুফি'।" কেন এহেন নাম? অভিনেতার জবাব, " আমি সুফি গানের বড্ড ভক্ত। তাছাড়া আমি খুব শান্ত পরিবেশ ভালবাসি, আধ্যাত্মিকতার দিকেও খানিক ঝোঁক আছে। সুফি গানের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার যোগ তো প্রবল... অতএব সব মিলিয়ে এই নাম রাখা।”

 

বিড়াল নিয়ে তাঁর ভালবাসার কথা আরও ব্যক্ত করলেন ঋষভ। “জানেন তো, বিড়াল খানিক স্বার্থপর। কুকুরের মতো অত মানুষের সঙ্গে অতটা আবেগপ্রবণ একেবারেই হয় না তারা। বিড়াল নিজে বাছাই করে নেয় কার কোলে সে উঠবে, কার হাতে সে খাবার খাবে এবং কার পাশে ঘুমোবে। নিজের মর্জি আর কী! সব জানার পরেও বলব, বিড়ালের সঙ্গে কিন্তু একটা আধ্যাত্মিকতার যোগ রয়েছে। মিশর থেকে শুরু করে হরপ্পা সভ্যতায় বিড়ালদের পুজো করা হত। দেবতার আসনেও বসানো হত। ওদের হাবেভাবে অদ্ভুত একটা সৌম্য, শান্ত ব্যাপারে সঙ্গে মিশে থাকে রহস্য। সব মিলিয়ে বিড়াল তাই আমার খুব প্রিয়।” 

 

কথায় কথায় অভিনেতা জানালেন, তাঁর ‘সুফি’র বয়স এখন চার মাস। গত এক মাস আগে তাকে নিজের কাছে এনে রেখেছেন তিনি। এইমুহূর্তে সেদ্ধ মাংস, কাঁটা বেছে দেওয়া মাছ এবং বিড়ালদের জন্য প্যাকেটজাত খাবার পরমানন্দে খাচ্ছে ‘সুফি’। কথাশেষে অভিনেতার সংযোজন, “সুফিকে নিয়ে মাঝেমধ্যে বন্ধুদের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি যাতে বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায়। কখনও সখনও গাড়িতে চাপিয়ে এমনি ঘুরতে বেরিয়ে যাই। ও চুপচাপ বসে থাকে, গাড়িতে চালানো গান শোনে...তবে, বোঝে কি না জানি না!” 

 


হৃতিক রোশনেরও খুব প্রিয় এই পার্সিয়ান বিড়াল। পোষ্য হিসেবে সেই বলি তারকার বাড়িতে এই প্রজাতির দু'টি বিড়াল রয়েছে। সেকথা শুনেতেই  খানিক চমকে উঠলেন অভিনেতা। “ছোট থেকেই হৃতিকের আমি অন্ধ ভক্ত। যেমন ওঁকে দেখতে, তেমন ওঁর অভিনয়, স্ক্রিন প্রেজেন্স, নাচ...ওরকম গ্রিক দেবতার ভাস্কর্যসুলভ চেহারা... ওঁর মতো কিছুই পাইনি, পাওয়া সম্ভবও না। তবে হৃতিকের সঙ্গে এটুকু জায়গাতেও যদি মিল থাকে, তাতে মন্দ কী! হৃতিকের রূপ পাওয়ার স্বাদ অন্তত বিড়ালে মিটুক!” হাসতে হাসতে বলে ওঠেন ‘সরলাক্ষ হোমস’।