হইচই প্ল্যাটফর্মে আসছে 'ঠাকুমার ঝুলি'। নতুন ভাবে, নতুন রূপে ৯০ দশকের ছেলেমেয়েদের নস্টালজিয়া ফিরতে চলেছে। ঠাকুমার সঙ্গে থাকবে তার নাতনিও। এদিন এই আসন্ন ওয়েব সিরিজের ঝলক প্রকাশ্যে এল। 

'ঠাকুমার ঝুলি'র যে ঝলক প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে নাতনিকে নিয়ে থানায় এসেছে ঠাকুমা। হরির মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ জানাতে। থুড়ি, হরিমতী সান্যালের। খাবারের সময় কী করে দুর্ঘটনাটি ঘটে সেটা ব্যাখ্যা করেন তিনি যা শুনে পুলিশ অফিসারের চুল ছেঁড়ার জোগাড়। শেষ পর্যন্ত জানা যায় এই হরি আসলে কেউ নয়, বরং ঠাকুমার বিড়াল। ফলে 'ঠাকুমার ঝুলি' সিরিজের ঝলকেই স্পষ্ট যে এটি বেশ মজার হতে চলেছে। রহস্যের সঙ্গে ভরপুর কমেডি থাকবে। 

ঠাকুমার ভূমিকায় শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে যে সে কথা আগেই জানা গিয়েছিল। এই সিরিজের হাত ধরেই তিনি ওয়েব মাধ্যমে পা রাখছেন। তাঁর সঙ্গে নাতনির ভূমিকায় থাকবেন দিব্যাণী মণ্ডল। আর পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা গেল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আগামী ২০ মার্চ থেকে হইচই প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে এই সিরিজ। অয়ন চক্রবর্তী পরিচালনা করেছেন। 

এই সিরিজের প্রথম ঝলকে দেখানো হয়, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় থাকবেন গিরিজাবালা সান্যাল চরিত্রে, যিনি বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা, ষাটের কোঠায় পৌঁছনো এক তীক্ষ্ণবুদ্ধি, সংযত ও গভীর পর্যবেক্ষণক্ষম নারী। শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও নীরব সহনশীলতায় গড়া তাঁর জীবন। অল্প বয়সেই স্বামীকে হারানো, পরে একমাত্র ছেলের মৃত্যু। এই দীর্ঘ শোক তাঁকে শিখিয়েছে কম কথা বলে বেশি দেখতে। সেই অভ্যাসই তাঁকে মানুষের মন ও পরিস্থিতি বুঝতে অসাধারণ দক্ষ করে তুলেছে। তাঁর নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী তিনটি বিড়াল। ‘হরি’, ‘বেলা’ ও ‘ফোঁটে’ -যারা তাঁর সংযত জীবনে এক নরম খামখেয়ালি স্পর্শ। 

গল্পের মোড় ঘোরে যখন তাঁর নাতনি যাজ্ঞসেনী (অভিনয়ে দিব্যাণী মণ্ডল), ক্রিমিনাল সাইকোলজি-র ছাত্রী এবং সান্যাল পরিবারের শেষ উত্তরাধিকারী, ভারতে ফিরে আসে ঘনিষ্ঠ বন্ধু অম্রপালি সিংহ রায়ের বিয়েতে যোগ দিতে। অম্রপালি প্রভাবশালী সিংহ রায় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। কিন্তু বিয়ের আসরেই হঠাৎ সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে নারাজ গিরিজাবালা। প্রথম থেকেই তাঁর মনে হয় কোথাও যেন মিলছে না হিসাব।

যাজ্ঞসেনীর বিষ্ণুপুর সফরই হয়ে ওঠে মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। মামলার সত্য উন্মোচিত না হওয়া পর্যন্ত সে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আর সেই সঙ্গে গিরিজাবালাকেও ফিরিয়ে আনে তাঁর বহুদিনের সুপ্ত অনুসন্ধানী প্রবৃত্তির কাছে।

এরপর শুরু হয় এক নতুন তদন্তযাত্রা, যেখানে দিদা-নাতনি একসঙ্গে খোঁজে নামেন সত্যের। এটি প্রচলিত ‘খুনি কে’ ধরনের রহস্য নয়; বরং প্রজন্মের অভিজ্ঞতা, বুদ্ধিমত্তা ও অন্তর্দৃষ্টি যেখানে মিলিত হয় বিশ্লেষণ, আধুনিক প্রশ্ন আর জেন-জি যুক্তির সঙ্গে। গিরিজাবালা ও যাজ্ঞসেনী শুধু সূত্র নয়, মানুষকেও পড়তে শেখে নীরবতা, সম্পর্ক আর চাপা উদ্দেশ্যের ভেতর দিয়ে।