ইজরায়েলি টেলিভিশন জগতের প্রথম সারির ও অন্যতম প্রভাবশালী প্রযোজক ডানা ইডেন-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বিনোদন মহলে। জনপ্রিয় স্পাই-থ্রিলার সিরিজ 'তেহরান'-এর প্রযোজনা দলের সঙ্গে শুটিংয়ের কাজে গ্রিসের আথেন্সে ছিলেন তিনি। সেখানকার একটি হোটেল কক্ষ থেকে ৫২ বছর বয়সী ইডেনের দেহ উদ্ধার হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স সহ একাধিক ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই খবরে সিলমোহর দিয়েছে।

 ডানা ইডেন-এর মৃত্যুর তদন্তে ইতিমধ্যেই নেমেছে গ্রিক পুলিশ। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি। তবে প্রাথমিক প্রমাণ ও সাক্ষ্য অনুযায়ী ঘটনাটিকে সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আপাতত কোনও অপরাধমূলক যোগ বা হামলার ইঙ্গিত মেলেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ায় ইডেনের ভাই উদ্বিগ্ন হয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। এরপরই হোটেল কক্ষে গিয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে, কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


 যারা ‘তেহরান’ সিরিজটির প্রযোজনা করে, তাদের তরফে শোকবার্তায় বলা হয়েছে, “পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য এটি গভীর বেদনার মুহূর্ত। আমরা অনুরোধ করছি, ডানার মর্যাদা ও তাঁর পরিবারের গোপনীয়তা যেন সম্মান করা হয়।” এই সংস্থাটি অনলাইন জল্পনা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেয়।তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক বা জাতীয় স্বার্থ জড়িত এমন মৃত্যুর গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


ইজরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিকি জোহার সামাজিক মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে লেখেন, “ডানা ছিলেন ইজরায়েলি টেলিভিশন জগতেরঅন্যতম প্রভাবশালী প্রযোজক। তিনি আমাদের গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন সাহস, প্রতিভা ও গর্ব নিয়ে।”


ডানা ইডেন ছিলেন ‘তেহরান’ সিরিজটির অন্যতম নির্মাতা, সহ-স্রষ্টা মোশে জনডার এবং মাওর কোন-এর পাশাপাশি। সাইবার যুদ্ধ, গুপ্তচরবৃত্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার গল্পে তৈরি এই সিরিজটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাম্প্রতিক তৃতীয় সিজনে অভিনয় করেছেন হিউ লরি। 
প্রধান ভূমিকায় নিভ সুলতান। এছাড়াও রয়েছেন শন তৌব, শিলা অম্মি, অতিথি চরিত্রে স্যাশন গ্যাবাই, ফোনিক্স রাই এবং ভার পার্স। জানা গিয়েছে তেহরান-এর চতুর্থ সিজনের শুটিং চলছিল বলেই এথেন্সে ছিলেন প্রযোজনা দল।

 

&t=313s

 

আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে ডানা ইডেনের মৃত্যু শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং একটি সৃজনশীল কণ্ঠের হঠাৎ নিভে যাওয়া। তাঁর তৈরি গল্প, চরিত্র, রাজনৈতিক নাটক বহুদিন ধরে বেঁচে থাকবে পর্দায়।