২০১৮ সালে যখন ‘তুম্বাড’মুক্তি পেয়েছিল, তখন সিনেমার গল্পের পাশাপাশি দর্শকদের সবচেয়ে বেশি হাড়হিম করেছিল ওঁর গা ছমছমে পরিবেশ। অবিরাম অবিশ্রান্ত বৃষ্টি, কর্দমাক্ত রাস্তা আর কুয়াশায় ঢাকা সেই কাল্পনিক গ্রামের আবহ ছবিটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। সেই অদ্ভুত বিষণ্ণ আবহ তৈরি করতে ছবির নির্মাতারা দীর্ঘ চার বছর ধরে কেবল বর্ষাকালের অপেক্ষায় বসেছিলেন এবং চার-চারটি বর্ষাকাল জুড়ে শুটিং করেছিলেন। এবার সেই ছবির সিক্যুয়েল অর্থাৎ ‘তুম্বাড ২’ -এর ক্ষেত্রেও নির্মাতারা সেই খাঁটি রূপ ধরে রাখতে এক চরম উন্মাদনার পথ বেছে নিয়েছেন। তবে এবার আর বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা নয়, বরং বৃষ্টির পিছু ধাওয়া করছে টিম ‘তুুম্বাড ২’!

খবর, এবার মহারাষ্ট্র জুড়ে বর্ষার খামখেয়ালিপনা এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালি পরিবর্তনের কারণে ছবির পুরো শুটিংয়ের পরিকল্পনাটাই ওলটপালট করে দেওয়া হয়েছে। নির্মাতারা এখন আবহাওয়া দফতরের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ‘রিয়েল-টাইম’ ট্র্যাক করছেন। যখনই খবর আসছে মহারাষ্ট্রের কোনও নির্দিষ্ট প্রত্যন্ত অঞ্চলে দারুণ বা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, টিম তড়িঘড়ি ওঁর জিনিসপত্র গুটিয়ে সেই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়ে যাচ্ছে!

 

ছবির সঙ্গে জড়িত একজনের দাবি, বড় বড় ট্যাঙ্কার এনে পাইপ দিয়ে কৃত্রিম বৃষ্টি বা ‘আর্টিফিশিয়াল রেইন’ তৈরি করার ঘোর বিরোধী পরিচালক-প্রযোজক। প্রথমত, কৃত্রিম বৃষ্টিতে তুুম্বাডের সেই আদিম ও ভয়ঙ্কর রূপ ফুটিয়ে তোলা যায় না। দ্বিতীয়ত, দেশের একাধিক প্রান্তে চলা তীব্র জলকষ্টের কথা মাথায় রেখে স্রেফ সিনেমার শ্যুটিংয়ের জন্য লক্ষ লক্ষ লিটার জল অপচয় করতে চাননি তাঁরা। তাই সত্যিকারের বৃষ্টির ওপরেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।


আসল বৃষ্টির খোঁজে টিম এখন কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে মহারাষ্ট্রের এমন সব দুর্গম ও প্রত্যন্ত অন্দরে, যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নেই বললেই চলে। সূত্রের দাবি, এমনই কিছু শর্টলিস্টেড পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গল ঘেরা লোকেশনে শ্যুটিং চলছে, যেখানে পৌঁছনোই কাস্ট এবং ক্রু মেম্বারদের কাছে এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিন ভারী ক্যামেরা ও শ্যুটিংয়ের সরঞ্জাম পিঠে নিয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে ট্রেকিং করে তবেই সেটে পৌঁছাচ্ছেন অভিনেতা সোহম শাহ থেকে শুরু করে লাইট বয়রা!

ছবির ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের কথায়— “কী অদ্ভুত ট্র্যাজেডি দেখুন, ‘তুুম্বাড ১’ বিখ্যাত হয়েছিল চার বর্ষার দীর্ঘ অপেক্ষার জন্য। আর ‘তুম্বাড ২’-এর ক্ষেত্রে টিম আক্ষরিক অর্থেই বর্ষার পেছনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে! বৃষ্টি নিজেই এই সিনেমার একটি অন্যতম প্রধান চরিত্র, তাই নির্মাতারা কোনও আপস করতে রাজি নন।”

ছবির গল্প নিয়ে খোদ অভিনেতা-প্রযোজক সোহম শাহ এখনও মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও, প্রোডাকশনের এই হাড়ভাঙা খাটুনি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে সিনেমাটি আরও একবার ইতিহাস গড়তে চলেছে। ‘সোহম শাহ ফিল্মস’-এর ব্যানারে তৈরি এই ছবিটির সঙ্গে এবার হাত মিলিয়েছে বলিউডের অন্যতম বড় প্রযোজনা সংস্থা ‘পেন স্টুডিওস’, যার কর্ণধার ডক্টর জয়ন্তীলাল গাডা। যাঁরা এর আগে ‘আরআরআর’ এবং ‘গঙ্গুবাই কাথিয়াওয়াড়ি’-র মতো ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন। ‘তুুম্বাড ২’ পরিচালনা করছেন আদেশ প্রসাদ । বড়পর্দায় ‘হাস্তর'-এর সেই গা শিউরে ওঠা দুনিয়া আরও এক বিরাট স্কেলে দেখার জন্য দর্শকদের আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ৩রা ডিসেম্বর, ২০২৭-এ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ‘তুম্বাড ২’।