৬ এপ্রিল সুচিত্রা সেনের জন্মবার্ষিকী। চলতি বছর তাঁর ৯৬ তম জন্মবার্ষিকী। আর এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের কাছে এক বিশেষ দাবি রাখলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
এদিন সমাজমাধ্যমে একটি কোলাজ পোস্ট করেন তসলিমা। সেখানে দেখা যাচ্ছে সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাসের নাম বদলে জুলাই ৩৬ ছাত্রীনিবাস রাখা হয়েছে। এই বিষয়েই তসলিমা লেখেন, 'পাবনার ছেলে গোপাল সান্যাল। যুক্তরাষ্ট্রে বাস। লালন উৎসব, লোক সংস্কৃতি উৎসব, সুচিত্রা সেন সিনে উৎসব, বঙ্গবন্ধু বইমেলা ইত্যাদি নানা সাংস্কৃতিক উৎসবের তিনি উদ্যোক্তা। পাবনার ছেলে বলেই পাবনার মেয়ে সুচিত্রা সেনের নাম স্মরণীয় করে রাখতে চান, তাই পাবনার এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রীনিবাসের নাম 'সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাস' রাখার জন্য যা কিছু করা দরকার করেছিলেন। কিন্তু জুলাই এসে লণ্ডভণ্ড করে দেয় সব। সুচিত্রা সেনের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে ছাত্রীনিবাসের নতুন নাম ঝুলিয়ে দেয় মবসন্ত্রাসীরা। সেই থেকে পাবনা হারিয়েছে তার সুচিত্রা সেনকে। জিহাদিরা এখনও জুলাই ভেঙ্গে খাচ্ছে। কিন্তু ছাত্রীনিবাসকে তো জিহাদের বাইরে রাখতে হবে। সেটি করতে হলে জুলাই ৩৬ নামটিকে তো বিদেয় করতে হবে। এই নাম দিয়ে ছাত্রীনিবাসকে কলঙ্কিত করার কোনও মানে হয় না।'
তিনি এদিন প্রশাসনের কাছে আবেদন করে লেখেন, 'আজ ৬ এপ্রিল সুচিত্রা সেনের ৯৬ তম জন্মদিন । এই দিনে আমেরিকার সুচিত্রা সেন মেমোরিয়াল পাবনার এডওয়ার্ড স্কুলের 'সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাস' নামটি ফেরত চাইছে। আমি তো মনে করি মেমোরিয়ালের আবেদনে প্রশাসনের সাড়া দেওয়া উচিত। কারণ জিহাদের চেয়ে শিল্প সংস্কৃতির মূল্য অনেক বেশি, পাবনার জিহাদিকে সম্মান না জানিয়ে পাবনার শিল্পীকে সম্মান জানানো ঢের ভাল।' (পোস্টদাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল)
প্রসঙ্গত ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনার বেলকুচি থানার অন্তর্গত ভাঙা বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাঁরা কলকাতায় চলে আসেন। তিনি হিন্দি এবং বাংলা, দুই ভাষাতেই কাজ করেছেন। উপহার দিয়েছেন 'দ্বীপ জ্বেলে যাই', 'সাত পাকে বাঁধা', 'সাড়ে চুয়াত্তর', 'হারানো সুর', 'পথে হল দেরি', ইত্যাদির মতো ছবি। পেয়েছেন পদ্মশ্রী, বঙ্গবিভূষণ, ইত্যাদির মতো সম্মান।
















