'শুধু তোমারই জন্য' ধারাবাহিকটি অল্প সময়ের মধ্যেই নজর কেড়েছে। রাহুল-রাহির চরিত্রে শুভ্রজিৎ সাহা এবং দীপান্বিতা রক্ষিতের রসায়ন দর্শকদের মনে ধরেছিল। টিআরপিতেও ভাল ফল করছিল ধারাবাহিকটি। কিন্তু তার মধ্যেই আসছে বড় চমক। রাহুলের চরিত্রে আর দেখা যাবে না শুভ্রজিৎকে, সেই কথা অভিনেতা নিজেই জানালেন।
'শুধু তোমারই জন্য' ধারাবাহিকের শুটিং শুরুর আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন শুভ্রজিৎ। মাথায় সেলাই পড়ে তাঁর। সেই নিয়েই প্রোমো শুট করেন। সম্প্রতি তিনি পুনরায় আঘাত পান। পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। চিকিৎসক বিশ্রাম নিতে বললেও তিনি একদিন অন্তর অন্তর শুটিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল শারীরিক কষ্ট। এবার ধারাবাহিক থেকে অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন।
এদিন শুভ্রজিৎ সাহা রাহুলের চরিত্রের একাধিক ছবি, তাঁর পায়ের প্লাস্টারের ছবি পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'সব কিছুর যেমন শুরু থাকে, তেমনই শেষ থাকে। কিন্তু শেষটা যে এভাবে হবে, তা কখনও ভাবিনি। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার কথা জানার পরেও টানা দুসপ্তাহে অন্তর দিন কাজ করে গেছি। অনেক কষ্ট করে শুটিং করেছি। তারপর যখন এমআরআইয়ের রিপোর্ট হাতে এল, ডাক্তারের ডায়গনোসিস শুনে জানলাম পায়ে আরও কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, শুধু বিশ্রাম না নিয়ে শুটিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এখন পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। প্লাস্টার করার পরও কদিন কাজ করেছি। কারণ শুধু তোমারই জন্য এর চলমান গল্পটা অসম্পূর্ণ রেখে যেতে চাইনি। ডাক্তার অনুমতি দিচ্ছিলেন না, তবুও নিজের শরীরের কথা না ভেবে কাজ করে গিয়েছি। কিন্তু এখন আর পা সত্যিই সঙ্গ দিচ্ছে না।'
১০ ঘণ্টা হুইলচেয়ারে বসে, চাকা ঘুরিয়ে চলাফেরা করে কোমর, হাতও ব্যথা বলে জানান শুভ্রজিৎ। তাই সবদিক বিবেচনা করে তিনি শো থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। রাহুলের কথায়, 'গল্পের দায়বদ্ধতা সবারই থাকে। তাই এমন একটা সিদ্ধান্ত আসতে হল। গল্পের স্বার্থে, প্রোডাকশনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এবং আমার শারীরিক অবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে এই মুহূর্তে রাহুল চরিত্রটার সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই থামল। আবার দেখা হবে অন্য কোথাও, অন্য কোনও রূপে, সুস্থ হয়ে।'
শুভ্রজিৎ রাহুলের চরিত্র থেকে সরে দাঁড়াতেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি শেষ হচ্ছে 'শুধু তোমারই জন্য'? নাকি নতুন নায়ক আসছে তাঁর জায়গায়। টলিপাড়ার অন্দরে ফিসফাস রবি সাউকে দেখা যেতে পারে নতুন রাহুল হিসেবে। তবে এই জল্পনার সত্যতা যাচাই করতে আজকাল ডট ইনের তরফে অভিনেতাকে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোনে অধরা থাকেন। শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎ কী হয়, চ্যানেল এবং প্রযোজনা সংস্থা কী সিদ্ধান্ত নেয় সেই দিকেই নজর থাকবে।















