বেশ কিছুদিনের বিরতির পর ফের পর্দায় হাজির হচ্ছেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী । তবে বড়পর্দায় নয়, এবার ওটিটি-তে দেখা যাবে তাঁর কাজ। মুখ্যচরিত্রে রয়েছেন দেবরাজ ভট্টাচার্য। এছাড়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন কোরক সামন্ত, প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং শঙ্কর দেবনাথ।
'ইচ্ছেপূরণ' সিরিজে দেবরাজ হলেন একজন জীবনবীমা সংস্থার এজেন্ট। তাঁর চরিত্রের নাম, অপু। দেবরাজের স্ত্রীর ভূমিকায় ঈশানী। কলকাতার উপকণ্ঠের এক ছোট্ট গঞ্জের নিস্তরঙ্গ পরিবেশে তাঁদের বাড়ি। সংসারে অর্থের টানাটানি, জীবনবীমার নতুন ‘পলিসি হোল্ডার’ না আনা নিয়ে বসের বকুনি, চোখরাঙানি -এককথায় খুবই সাদামাঠা জীবন অপুর। কিন্তু হঠাৎ একদিন ভাগ্যের চাকা ঘুরল। তাঁদের সংস্থার জীবনবীমার জন্য নতুন একজন ব্যক্তিকে 'ক্লায়েন্ট'-এ পরিণত করতে পারল অপু। তারপর আরেকজন। তারপর আরও একজন। তারপর আরও, আরও। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হল, যে ব্যক্তিরাই অপুর ‘পলিসি হোল্ডার’ হলেন তাঁরা কিছুদিনের মধ্যেই মারা যেতে লাগলেন আর স্বভাবতই তাঁদের জীবনবীমার টাকাগুলো পেতে থাকল তাঁদের পরিবার। বলাই বাহুল্য,সেইসব পরিবারের মধ্যে যেন খুশির হাওয়া আসা শুরু হল। অপুর এহেন কীর্তি র যশ হাওয়ার বেগে দ্রুত ছড়াতে লাগল চারপাশে। অফিসে তাঁর সম্মান, খাতির তো বাড়লই, পাশাপাশি বাড়ল তাঁর বাড়ি-গাড়িও! এমনকী, অপুর কাছে বহু মানুষ হত্যে দিয়ে পড়া শুরু করলেন তাঁদের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সদস্যের মোটা টাকার জীবনবীমা করাবার জন্য। এই আশায়, যাতে দ্রুত ওই ‘ক্লায়েন্ট’-এর মৃত্যু হলে জীবনবীমার টাকাটা পরিবারের সদস্য হওয়াতে আইনত ভাবে তাঁরা পান!

তো সেই গঞ্জের-ই অধিবাসী এক টোটোচালক। নাম সদানন্দ (কোরক সামন্ত অভিনীত চরিত্রটি)। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের 'পদাতিক' ছবি সহ নানান ওয়েব সিরিজে দেখা গিয়েছে কোরক-কে। এছাড়াও বাংলা থিয়েটারের মঞ্চে নিয়মিত হাজির হন তিনি। আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে ‘ইচ্ছেপূরণ’ ও সদানন্দ-কে নিয়ে ছোট্ট আড্ডা মারলেন তিনি। কোরকের কথায়, “সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সদানন্দ। শিক্ষিত বেকার। স্ত্রী মারা গিয়েছে, ছোট্ট মেয়েকে নিয়েই তাঁর সংসার। পড়াশোনা করা সত্বেও চাকরি না পেয়ে টোটা চালাচ্ছে -এই হতাশা, রাগ সদানন্দকে কুরে কুরে খায়। যদিও তাঁর মানবিক মূল্যবোধ অভাব কেড়ে নিতে পারেনি। সেই ছোট্ট মেয়েটির খুব অসুখ হয়। অর্থের জন্য তখন তাঁর পাগলপারা অবস্থা, তখনই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় অপুর! এদিকে অপু তো তখন প্রায় 'সুপারি কিলার'। সেই অবস্থায় সদানন্দ মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে কি অপুর থেকেই টাকা নেওয়ার ঝুঁকি নেবে? আর অপুও কি সবটা জেনে তাঁকে 'পলিসি হোল্ডার' করবে নাকি অন্য কিছু ব্যবস্থা নেবে? এই নিয়েই এগোবে 'স্বপ্নপূরণ'-এর গল্প।”

খানিক থামলেন কোরক। তারপর ফের বলে উঠলেন, “সিরিজটি ভীষণ বাস্তব ঘেঁষা জানেন তো। একেবারে এই সময়ের দলিল বলতে পারেন। বর্তমান সময়ে যাঁরা পড়াশোনা করেও এ দেশে তাঁদের যোগ্য কাজকর্ম পাচ্ছেন না, সদানন্দ তাঁদেরই প্রতিভূ। সেই চাকরি না পাওয়ার হতাশা, কষ্ট এক নিম্ন মধ্যবিত্তের জীবনে কী কী সমস্যা আনতে পারে সে ছবিও তুলে ধরে স্বপ্নপূরণ। এবং দিনের শেষে এই চরিত্রটি একজন বাবা-ও বটে। কেরিয়ারে প্রথমবার একজন সন্তানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করলাম। এই বয়সে অভিনেতা হিসেবে করাটা বেশ খানিকটা ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে জানি, কিন্তু দেখা যাক। আর একটা কথা এই ফাঁকে বলতে চাই, সেটা হল। জীবনে এই প্রথম কোনওরকম গাড়ি চালানো শিখলাম অভিনয়ের জন্যে। তারপর সাঁই সাঁই করে কিন্তু শুটিংয়ে টোটো চালিয়েছি। এমনিতে কিন্তু সাইকেলও চালাতেও জানি না আমি...” বলতে বলতে হেসে ওঠেন কোরক।

কথাশেষে অভিনেতার থেকেই জানা যায়, যদিও স্লাইস অফ লাইফ-এর গল্প স্বপ্নপূরণ, তবু সিরিজের সিক্যুয়েলের সম্ভাবনা কিন্তু রেখে দিয়েছেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী। দর্শক চাইলে স্বপ্নপূরণ-এর চরিত্রদের আরও কাণ্ডকারখানা দেখতে পাওয়া যেতেই পারে।
