প্রায়শই শিরোনামে থাকেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। কখনও তাঁর কাজ নিয়ে, কখনও বক্তব্যে, কখনও বা একেবারেই নিজের মতো করে বেঁচে থাকার জেদি ভঙ্গিতে। সমাজমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে আলোচনা যেন নিত্যদিনের রুটিন। কারণ একটাই, স্বস্তিকা পর্দার বাইরেও কোনও চরিত্র নন, তিনি যেমন, তেমনই থাকতে ভালবাসেন।

সম্প্রতি ওজন ঝরিয়ে আবারও ফিরেছেন তাঁর ছিপছিপে, আত্মবিশ্বাসী লুকে। কিন্তু তাতেও ‘স্টারডম’-এর কোনও ভার তাঁর কাঁধে চাপে না। বেশিরভাগ সময়েই তিনি একেবারে পাশের বাড়ির মেয়েটিই -কখনও খানিক এলোমেলো চুলে নিজের পোষ্যকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটছেন, তো কখনও বোনের সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় রিক্সা বা টোটোতেই চেপে পড়ছেন নির্দ্বিধায়। স্বস্তিকার জীবনে আড়ম্বর নেই, আছে স্বচ্ছতা।সমাজমাধ্যমে খোলাখুলিভাবেই নিজের মনের কথা বলতে কোনও দ্বিধা নেই তাঁর। আর সেই কারণেই তাঁর প্রতিটি পোস্ট হয়ে ওঠে আলোচনার বিষয়। এবার যেমন বন্ধুর বিয়েতে সেজেগুজে হাজির হয়ে একগুচ্ছ ছবি ও দীর্ঘ অনুভূতির পোস্ট শেয়ার করলেন অভিনেত্রী, যা মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলেছে।

 

 

বন্ধুর বিয়েতে যাওয়ার গল্পটা যেন একেবারে স্বস্তিকা-স্টাইল। আমলি থেকে টোটো চেপে বোলপুরের বিয়েবাড়ির পথে, মাথায় দেওয়ার মতো পছন্দের ফুল খুঁজে না পেয়ে টোটোদাদার সঙ্গে আলোচনা। বাজার অনেক দূর, উল্টো দিক। তাই সিদ্ধান্ত -রাস্তার দু’পাশে চোখ রেখে চলা। ফুল গাছ দেখলেই ঝাঁপ! আর ঠিক সেই সময়েই একটি দেওয়াল বেয়ে ঝুলতে থাকা সূর্যের রঙের থোকা থোকা ফুল নজরে পড়া। টোটো থামিয়ে, ফুল ছেঁড়া, ব্যাগে রাখা কাঁটা দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে খোঁপায় গোঁজা...সবটাই যেন মুহূর্তের আনন্দে ধরা।

হোটেলে ফিরে সেই ফুল যত্ন করে খুলে বিছানার পাশে রেখে দেওয়া। কারণ ফুল তাঁর কাছে শুধু সাজ নয়। স্মৃতি, আবেগ আর উত্তরাধিকারের প্রতীক। মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। সিল্কের শাড়ি, আলতো খোঁপা, কপালে বড় টিপ, মাকে কপি করেই যেন আজও বাঁচতে চান স্বস্তিকা। আর সেই শাড়ির বয়স? তাঁর মেয়ের থেকেও বেশি,প্রায় ২৭ বছরের পুরনো। পার্ক স্ট্রিটের এক দোকান থেকে মায়ের কেনা। যত্ন করে রাখলে সবই থাকে -শাড়ি হোক বা জীবন, স্পষ্ট করে লিখেছেন তিনি।

পোস্টে আরও একবার সাহসী স্বীকারোক্তি মৃত্যুর পরেও যেন তাঁকে ফুল দিয়েই বিদায় জানানো হয়। ফুল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী, সম্পর্ক নিবিড়, গভীর।

 

&t=313s

 

এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তুমুল আলোচনা। কেউ তাঁর সাহস, স্পষ্টতা আর জীবনদর্শনের প্রশংসায় মুখর। আবার কেউ কটাক্ষ ছুঁড়তেও ছাড়েননি। কিন্তু তাতে দমবার পাত্রী নন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।স্টারডমের তোয়াক্কা না করেই, নিজের মতো করে বাঁচার মধ্য দিয়েই আবারও প্রমাণ করে দিলেন, তিনি শুধুই একজন অভিনেত্রী নন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার নিঃসন্দেহে এক ‘কুইন’।

পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় আলোড়ন। কেউ তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করছেন, কেউ আবার নতুন করে কটাক্ষ ছুঁড়ছেন। কিন্তু একথা স্পষ্ট, স্বস্তিকা আবারও প্রমাণ করলেন, তিনিই সোশ্যাল মিডিয়ার ‘কুইন’।