চারপাশে ভরা বসন্ত। রোদের তেজ এখনও চোখ রাঙানো শুরু করেনি, কিন্তু দুপুরের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ পাক খেয়ে ওঠা হাওয়া, দূরে কোকিলের ডাকে যেন মনকেমন করা আবহ। গাছের ডালে ডালে রঙিন ফুল, চারপাশে অদ্ভুত নীরবতা আর রঙের মেলবন্ধন—সব মিলিয়ে যেন প্রেমের জন্য তৈরি এক অনুকূল সময়। এমন ঋতুতেই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নতুন করে প্রেমে পড়েছেন কি না অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-এর তরফে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। আর সেই প্রশ্নে রাখঢাক না রেখেই নিজের মত স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
হালকা হাসি আর সামান্য মাথা নেড়ে স্বস্তিকার সোজাসাপ্টা জবাব, “না, না প্লিজ। এই শব্দটা শুনলেই আজকাল আমি পরিষ্কার বলে দিই—এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। কারণ, আমার মনে হয় এখন আর মানুষের ঠাট্টা-ইয়ার্কি নেওয়ার মানসিকতা নেই। সব বিষয়ই খুব সিরিয়াস হয়ে যায়।”
এরপরই প্রসঙ্গ ঘুরে যায় তাঁর সাম্প্রতিক ভ্রমণের দিকে। কিছুদিন আগেই কাশ্মীর ঘুরে এসেছেন অভিনেত্রী। সেই অভিজ্ঞতার কথাও অকপটে শোনালেন তিনি।
স্বস্তিকার কথায়, “আমি সদ্য কাশ্মীর থেকে ঘুরে ফিরেছি। কলকাতায় ফিরে এসে তো বুঝতেই পারছি না কোন ঋতু চলছে। প্রচণ্ড গরম লাগছে! বিমানবন্দরে নামতেই নাক বন্ধ হয়ে গেল। অথচ কাশ্মীরের হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডাতেও আমি বেশ ফুরফুরে ছিলাম।”
এখানেই থামেননি তিনি। কলকাতার আবহাওয়া নিয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতাও শোনালেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, “বাংলায় তো সারা বছরই যেন একটাই ঋতু—গরমকাল! শীতেও গরম লাগে, বৃষ্টি হলেও গরম লাগে, আর গরমকালে তো গরম লাগেই! এখন বাড়িতে দুটো পাখা ফুল স্পিডে চালিয়ে শুয়ে পড়ছি।”
তবে সবশেষে জীবনের প্রতি নিজের সহজ দর্শনও স্পষ্ট করে দিলেন স্বস্তিকা। তাঁর মতে, ভাল থাকার জন্য আলাদা কোনও ঋতুর দরকার নেই।
“সব ঋতুতেই আমি ভাল থাকি। ভাল থাকার জন্য আলাদা করে কোনও ঋতু লাগে না,”—বলেই শেষ করলেন অভিনেত্রী।
বসন্তের প্রেমের প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিলেও, তাঁর কথাতেই যেন স্পষ্ট—এই মুহূর্তে জীবনের ছোট ছোট আনন্দেই স্বস্তিকা খুঁজে নিচ্ছেন নিজের ভাল থাকার সূত্র।
