বাংলা সিনেমায় মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারের পাশাপাশি রোড ফিল্মের তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে 'ছেলেধরা'। অরুণাচল প্রদেশে শুরু হচ্ছে ছবির শুটিং, আর ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন লাবণী সরকার।  ইন্দো-আমেরিকান যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই বাংলা ছবিটি পরিচালনা করছেন শিলাদিত্য মৌলিক, যিনি গল্পে মিশিয়েছেন পারিবারিক টানাপোড়েন, ডার্ক হিউমার এবং গভীর মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা। সঙ্গে তো রিয়েছে রোড ফিল্মের স্বাদ। 

ছবির শুটিং হবে অরুণাচলের দুই গুরুত্বপূর্ণ লোকেশনে -ইটানগর এবং জিরো ভ্যালি। পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে দিয়ে এগোবে ছবির গল্প, যা নির্মাতার ভাষায় একদিকে রোড-জার্নি, অন্যদিকে আত্মআবিষ্কারের পথচলা।

 

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বৃষ্টি নামের এক ডিভোর্সি নারী—আবেগপ্রবণ, আঘাতপ্রাপ্ত, এবং সমাজের চোখে ভুল বোঝা এক মানুষ। মেয়ের জন্মদিনে তাকে খুশি করতে গিয়ে নিজের সন্তানকেই “চুরি” করার অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেয় সে। কিন্তু ঘটনাচক্রে জানতে পারে, শিশুটি সত্যিই অপহৃত। এরপর শুরু হয় এক টানটান সফর, যা বদলে দেয় বৃষ্টির জীবন, সম্পর্ক এবং আত্মপরিচয়ের ধারণা।

পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিক জানিয়েছেন, এই ছবি আসলে ভাঙা সম্পর্কের মানুষদের সাহস খুঁজে পাওয়ার গল্প। তাঁর কথায়, এটি যেমন থ্রিলার, তেমনই মানবিক পুনর্জন্মের গল্প। এক দ্বিতীয় সুযোগের গল্প। ছেলেধরা ছবিতে নিজের অভিনীত চরিত্র নিয়ে বলতে গিয়ে স্বস্তিকা জানান, বৃষ্টি এমন একজন নারী যাকে সহজে ভাল লাগার কথা নয়। কিন্তু মেয়ের প্রতি তার তীব্র ভালবাসা এবং ভেতরের ভাঙনই তাকে টেনেছে এই চরিত্রে। অভিনেত্রীর মতে, চরিত্রটির আবেগগত দুর্বলতা এবং জটিলতা তাঁকে অভিনয়ের নতুন চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। ছবিটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে ভারতীয় সংস্থা হ্যান্ডিম্যান এবংসীতা ২২ ফিল্মজ। নতুন প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, নারী ও শিশুর আবেগকে কেন্দ্র করে নির্মিত গল্পগুলোই তিনি সামনে আনতে চান, এই ছবিও তারই অংশ।

 

অরুণাচলে রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দর থেকে ছবি পোস্ট করে স্বস্তিকা লিখলেন, 
“নতুন ছবি, নতুন আমি, আর প্রথম রোড-ফিল্ম। আউটডোর শুটে বেরোনোর আনন্দটাই আলাদা।” নিজের ফিজিক্যাল ট্রান্সফর্মেশন নিয়েও গর্বিত তিনি। ওজন কমানোর যাত্রা এবং নতুন ছবির শুটিংয়ের দল—সব মিলিয়ে নতুন সফর শুরুর উত্তেজনা স্পষ্ট তাঁর কথায়। ‘ছেলেধরা’ ছবিতে তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে অভিনেত্রী লাবণী সরকার-কেও।

প্রসঙ্গত, ছবির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন ইতালীয় চিত্রগ্রাহক ভিনসেঞ্জো কোনদোরেলি, যিনি জিরো ভ্যালির নাটকীয় পটভূমিকে পর্দায় তুলে ধরবেন ভিন্ন নান্দনিকতায়। মার্চের শেষ পর্যন্ত চলবে শুটিং, শিগগিরই ঘোষণা হবে আরও অভিনয়শিল্পীদের নাম।

শক্তিশালী চরিত্র, আন্তর্জাতিক প্রযোজনা এবং আবেগময় থ্রিলার কাঠামো, সব মিলিয়ে ‘ছেলেধরা’ ইতিমধ্যেই হয়ে উঠছে নির্মীয়মাণ বাংলা ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম আলোচিত প্রজেক্ট।