টলিপাড়ার অন্দরে ফের চরম উত্তেজনা। এবার ফেডারেশনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন সহকারী পরিচালকরা (অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর)। সমবেত হয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ফেডারেশনের যাবতীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির সবচেয়ে বড় শিকার হতে হচ্ছে খোদ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডকে। আর এই সমস্ত অভিযোগের তির গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক অমিত কুমার সামন্ত এবং ফেডারেশন কর্তা স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে। এবার এই নিয়ে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে বিক্ষোভ দেখালেন সহকারী পরিচালকরা।

সহকারী পরিচালকদের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই গিল্ডের অন্দরে চরম অনিয়ম ও স্বজনপোষণ চলছে। যুগ্ম সম্পাদক অমিত কুমার সামন্ত নিজের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে অন্য কোনও সদস্যকে কাজ দেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পক্ষপাতিত্বের জেরে সাধারণ ও যোগ্য সদস্যরা দিনের পর দিন কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি গিল্ডের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর ফেডারেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও কোন নিয়মে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডের নির্বাচন করা হল? প্রতিবাদী পরিচালকদের দাবি, এই পুরো বেআইনি প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস।

এই বিক্ষোভ থেকেই স্বরূপ বিশ্বাসের সহকারী পরিচালকের পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়েছে। উল্লেখ্য, স্বরূপ বিশ্বাস নিজেও এই গিল্ডের একজন সদস্য। কিন্তু একজন অ-প্রোফেশনাল ব্যক্তি কীভাবে এই গিল্ডের সদস্যপদের কার্ড পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাকিরা। সহকারী পরিচালকদের সাফ দাবি— স্বরূপ বিশ্বাস তাঁর কেরিয়ারে যে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন, তার উপযুক্ত প্রমাণ ও নথিপত্র জনসমক্ষে আনতে হবে।

এদিন বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাছেও এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। শুধু তাই-ই নয়, রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে বলেও খবর। 

টলিপাড়ার সহকারী পরিচালকদের থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আজকাল ডট ইন-কে পাপিয়া অধিকারী বলেন, "আমার কাছে বেশ কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ আসছিল। ফেডারেশন যে বেআইনি পথে চলছে তা তো পরিস্কার। নিজের পরিচিত ছাড়া কেউ কাজ পাননি এতদিন। যাঁরা প্রতিবাদ করেছেন তাঁরা কাজ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শুনেছি স্বরূপ বিশ্বাস নাকি কাজ হারাদের আত্মহত্যার প্ররোচনাও দিতেন। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। আমি দেখছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পদক্ষেপ করব।"