কয়েক দিন আগে বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী সুধা চন্দ্রনকে নিয়ে এই মুহূর্তে তোলপাড় হয়েছিল নেটদুনিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে অভিনেত্রীকে এক অন্য রকম আধ্যাত্মিক রূপে দেখা গিয়েছিল। দেবীর ভজন চলাকালীন তিনি এতটাই মোহিত হয়ে পড়েন যে, সেখানে উপস্থিত থাকা দর্শনার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গানের সুর ও বাজনার তালে তালে সুধা হঠাৎই অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁর চোখে-মুখে এক অদ্ভুত পরিবর্তন ধরা পড়ে এবং তিনি এক প্রকার ঘোরের মধ্যে চলে যান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তিনি নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুধা জানান, ওই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল, তার অনেকটাই তাঁর মনে নেই। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে শোনা কথার উপর নির্ভর করেই তিনি ঘটনাটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। সুধা বলেন, “আমি তখন কী অবস্থায় ছিলাম, সেটা আমি নিজেও মনে করতে পারি না। আমি এটাও বলব না যে দেবী স্বয়ং আমার মধ্যে প্রবেশ করেছিলেন, কারণ সেটা হলে মানুষের শরীর সেই শক্তি সহ্য করতে পারত না। কোনও মানুষই এতটা শক্তি ধারণ করতে পারে না। হয়তো তাঁর আশীর্বাদের সামান্য অংশ আমাকে স্পর্শ করেছিল। এটুকুই। হয়তো সেটা তাঁর উপস্থিতি ছিল, হয়তো নয়। কিন্তু আমি জানি, আমি আশীর্বাদপ্রাপ্ত। আমি এই বিশ্বাসে আস্থা রাখি, আর এটা আমার সঙ্গেই ঘটেছে।”
সুধা আরও জানান, ভক্তিমূলক অনুষ্ঠানে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারে নতুন নয়, তবে এবারের ঘটনাটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি তীব্র ছিল। তিনি বলেন, “এবার এনার্জির মাত্রা একটু বেশি ছিল। এর পরে আমি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমার পরিবার জানিয়েছে, মাত্র ছয়-সাত মিনিটের মধ্যে আমি প্রায় চার লিটার জল খেয়েছিলাম। এটা কি আদৌ স্বাভাবিক? আমার স্বামী বলেছেন, আমি নাকি জল চাইছিলাম। অথচ কিছু মানুষ মন্তব্য করেছে, আমি নাকি নিউ ইয়ার পার্টির রেশে এখনও নেশাগ্রস্ত। এসব শুনে আমি শুধু হাসিই। আমার মনে হয়। যার যেমন ভাবনা।”
এই ঘটনাকে সাজানো বা ইচ্ছাকৃতভাবে নাটকীয় রূপ দেওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দেন সুধা। তাঁর প্রশ্ন, “এতে আমার লাভটাই বা কী?” তিনি বলেন, “যদি কেউ বিশ্বাস না করে, আমি কাউকে প্রমাণ দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে নেই। আমি যদি আমার প্রতিটি কাজের ব্যাখ্যা দিতে থাকি, তাহলে নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারব না। আমি কারও বিশ্বাস, সংস্কার বা ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। তাই আমার বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকারও কারও নেই। বিশ্বাস করতে না চাইলে করবেন না, আমার কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আমার বিশ্বাসকে অসম্মান করবেন না।”
কয়েক সপ্তাহ আগে একাধিক ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ভিডিওগুলিতে দেখা যায়, লাল-সাদা শাড়ি পরা সুদার মাথায় ‘জয় মাতা দি’ লেখা ব্যান্ড। ভজন চলাকালীন তিনি আবেগে ভেঙে পড়েন, কখনও লাফাচ্ছেন, কখনও অস্থিরভাবে নড়াচড়া করছেন। কয়েকজন মিলে তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন।
কাজের দিক থেকে অবশ্য সুধার জনপ্রিয়তা ও সম্মান আজও অটুট। সাম্প্রতিক সময়ে ‘নাগিন’-এর প্রথম দু’টি সিজনে যামিনী রাহেজা চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ‘ইয়ে হ্যায় মোহব্বতে’, ‘কিউঁকি সাস ভি কভি বহু থি’, ‘মাতা কি চৌকি: কলিযুগ মে ভক্তি কি শক্তি’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করেছেন।
