শেয়ার বাজার স্বভাবতই অস্থির, তবে গত এক সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য যেন আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। একের পর এক শিরোনাম—ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জল্পনা, ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), বাজেট ২০২৬ সংক্রান্ত প্রত্যাশা, সোনা ও রুপোর দামে তীব্র সংশোধন এবং হঠাৎ আইটি শেয়ারে বড়সড় বিক্রি—সবকিছুই প্রায় একই সময়ে ঘটেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত ঘটনা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
2
12
এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো প্রতিটি বাজার ওঠানামায় প্রতিক্রিয়া দেখানো। স্বল্পমেয়াদি ভয় বা আবেগের বশে পোর্টফোলিওতে ঘন ঘন পরিবর্তন করলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
3
12
বাস্তবতা হল বাজার সবসময় চক্রাকারে চলে। শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি যেমন আসে, তেমনই সংশোধন বা পতনও তার অংশ। শান্ত সময়ের পর হঠাৎ ধাক্কা আসাই বাজারের স্বাভাবিক চরিত্র।
4
12
২০২৬ সালের শুরুটা দালাল স্ট্রিটের জন্য খুব একটা আশাব্যঞ্জক হয়নি। অন্যদিকে ২০২৫ ক্যালেন্ডার বছরে ভারতীয় শেয়ার বাজার ইতিবাচক হলেও তুলনামূলকভাবে সীমিত রিটার্ন দিয়েছে।
5
12
সেনসেক্স ও নিফটি ৫০ বছরে প্রায় ৮–১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংখ্যার হিসেবে এটি ভাল মনে হলেও, বিশ্বের প্রেক্ষাপটে এবং ডলার রিটার্নের হিসাবে ভারত অনেক বড় বাজারের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে।
6
12
জাপান, ইউরোপের একাধিক দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো বাজারে ২০ শতাংশেরও বেশি রিটার্ন দেখা গেছে। এই পার্থক্য ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশোধন নিয়ে সংবেদনশীলতা বাড়িয়েছে, যদিও বাস্তবে অনেক সংস্থার ব্যবসায়িক ভিত্তিতে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
7
12
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা জরুরি। ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সতর্ক আশা রয়েছে, তবে এর প্রকৃত প্রভাব চূড়ান্ত নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না।
8
12
আইটি, সৌর উৎপাদন, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং রত্ন ও গয়নার মতো খাত উপকৃত হতে পারে, কিন্তু এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
9
12
আইটি খাতের এই দুর্বলতা সাময়িক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিঃসন্দেহে ঐতিহ্যবাহী আইটি পরিষেবাকে প্রভাবিত করবে, কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে, এআই নিজেই আইটি খাতেরই একটি উৎপাদ। ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে এআই ক্ষমতায় বিনিয়োগ করছে।
10
12
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কোনও ব্যাপক রিসেট বা কৌশল বদলের প্রয়োজন দেখছেন না। বাণিজ্য চুক্তি, বাজেট ঘোষণা, এআই সংক্রান্ত ভয় বা সাময়িক আইটি চাপের মতো স্বল্পমেয়াদি খবরে ভিত্তি করে মিউচুয়াল ফান্ড কৌশল বদলানোর কোনও দরকার নেই।
11
12
বিনিয়োগ কৌশল বদলানো উচিত শুধু তখনই, যখন ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনীতি বা ব্যক্তিগত আর্থিক লক্ষ্যগুলিতে মৌলিক পরিবর্তন আসে।
12
12
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা স্পষ্ট—বাজারের স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতায় দিশেহারা না হয়ে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আস্থা রাখাই বুদ্ধিমানের।