৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাংলায় বিজেপির জয়জয়কার। শিবপুর থেকে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ৷ কেন বিজেপির এই বিপুল জয়, সেই ব্যাখ্যাও দিলেন, কী বললেন?
রুদ্রনীল বলেন," সকলকে ধন্যবাদ, পশ্চিমবঙ্গবাসীকে আমার প্রণাম। এই লড়াই তাঁদের অন্ধকারমুক্তির লড়াই৷ তাঁদের সঙ্গে যে নাগরিক প্রতারণা করা হয়েছে, তাঁদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে , প্রাণের সঙ্গে, তার বিরুদ্ধে এই লড়াই তাঁদেরই ছিল৷"
রুদ্রনীলের সংযোজন,"সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী এবং শিবপুরবাসীকে আমার ধন্যবাদ জানাই৷ আমার রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হচ্ছিল সুচারুভাবে, যেভাবে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানোর চক্রান্ত চলছিল, বারবার বলার পরেও ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার খুলে রেখে দেওয়া হচ্ছিল৷ সারা পৃথিবীতে কোথাও এমনটা হয় না৷ কোনও দেশের নেতা নেত্রী বা রাষ্ট্র এমনটা বলে না যে চলে আসুন, ভোটার কার্ড বানিয়ে দেব, ভোট দিয়ে দেবেন৷ দলমত নির্বিশেষে মানুষ শিহরিত।"
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং ২৬ হাজার চাকরি বাতিল প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন রুদ্রনীল। তিনি বলেন," মানুষ দেখেছেন কীভাবে সরকারি ভাবে চাকরি চুরি করে নথি নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে৷ হিন্দু হোক, মুসলমান হোক বেকার ছেলেমেয়েরা যাঁরা চাকরি করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের চাকরি চুরি করে উপহারে দিয়েছে অপমান অসম্মান। এই বদলার প্রতীক্ষায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ৷"
স্বাস্থ্য বিষয় রুদ্রনীল বলেন," হেলথসেন্টার বা হাসপাতালকে রুগ্ন করে প্রাইভেট হাসপাতালে গরীব মানুষ ঘটি বাটি বেচে আত্মীয়পরিজনকে বাঁচাতে যেতে বাধ্য হয় তার সুচারু পরিকল্পনা তৃণমূলের৷"
রামায়ণের প্রসঙ্গ টেনে রুদ্রনীল বলেন, " ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের হাতে দাম্ভিক রাবণের পরাজয় হয়েছিল৷ পশ্চিমবঙ্গেও তাই হল৷ আমি ধন্যবাদ জানাব মানুষ ভোটের দিনকে ছুটির দিন মনে করেননি। "
শুধু তৃণমূল নিয়, বাম-কংগ্রেও মানুষকে ভুল বুঝিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রুদ্রনীল৷ তিনি বলেন, "মানুষকে ভয় দেখানো হয়েছিল৷ মানুষ কিছুটা ভয় পেয়েওছিলেন৷ কিন্তু তারপর তারা দেখলেন এত অত্যাচার লুটের পরেও বিজেপির কর্মীরা কেউ নিজেদের কথা বলেনি৷ তৃণমূলের মিথ্যাচার, পরিকল্পিত লুটের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন৷ তৃণমূলকে ভোট দিয়ে বারবার যে সব সহজ সরল মানুষ ঠকেছেন, নিজের বাড়ির ছেলেমেয়েদেরকে চোখের জল মুছে অন্য রাজ্যে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিটেমাটি ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাই দলমত নির্বিশেষে তাঁরা ভারতীয় জনতা পার্টিকে দায়িত্ব তুলে দিলেন। তাই পেটের ভাত আর হাতের কাজ কীভাবে আনা যায়, কীভাবে শিল্প আনা যায়, যাতে আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা বাইরে চলে না যায়, নারী নিরাপত্তা, নারীদের সম্মান যেন থাকে, শিশুদের মিড ডে মিল চুরি হওয়ার ঘটনা যেন আর না ঘটে, তাই এই দায়িত্ব৷"
রুদ্রনীল আরও বলেন, "চিংড়িঘাটায় ব্রিজ হল না, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আসার পরেও কাজ হতে দিল না রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য৷ মানুষ সব দেখেছেন, বুঝেছেন তাই ভেবেছিলেন এই আস্ফালন এই যন্ত্রণা সব একটা বোতাম টিপে দু'দফায় শেষ করব৷
টালিগঞ্জে ব্যান কালচার নিয়ে রুদ্রনীল বললেন, "এই ঘটনা বহু মানুষের সঙ্গে হয়েছে, যাঁরা পরিচিতির আলোয় ততটাও নেই৷"















