ভরা বসন্ত। আর সেই ভরা বসন্তেই নিজের ছোটবেলার ‘ক্রাশ’-এর কথা বলতে গিয়ে এক লহমায় তারকা থেকে ‘ফ্যান গার্ল’-এ পরিণত হলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। আর তাঁর ‘ক্রাশ’-এর নাম? শাহিদ কাপুর। বুধবার শাহিদের জন্মদিন ।এদিন ৪৫টি বসন্ত পেরিয়ে ফেললেন ‘হায়দর’। এই বলি তারকার প্রতি বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ভাললাগার কথা নতুন নয়। তাই তো এদিন আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে শাহিদ নিয়ে কথা বলার সময় আরও একবার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল ‘কাবেরী অন্তর্ধান’-এর নায়িকার। টেনে খুলে দিলেন ব্যক্তিগত অনুভূতির দরজা। 


আজকাল ডট ইন-কে শ্রাবন্তী বললেন, “আমার কিশোরীবেলার ক্রাশ শাহিদ। পর্দায় প্রথম দেখাতেই শুধু ভাল লাগা নয়, মুগ্ধতা ছুঁয়ে গিয়েছিল। আজও সে রেশ যায়নি। আমি কাটাতেও চাই না। অভিনেতা হিসেবে শাহিদ কতটা পাকাপোক্ত সেটা বহু বছর ধরেই সবাই জানেন, তাই তা নিয়ে কিছু বলছি না। তবে মানুষ হিসেবেও শাহিদ যে দারুণ, বিনয়ী তা কিন্তু ওঁর সঙ্গে সামনাসামনি প্রথমবার দেখা হওয়াতেই বুঝে গিয়েছিলাম। সেটা ২০১১ সাল। ‘ফান্দে পরিয়া বগা কান্দে রে’ ছবির ‘কোকা কোলা’ গানের শুটিংয়ের জন্য মুম্বইয়ের একটি নামী স্টুডিওতে হাজির আমরা। কাকতালীয়ভাবে ওইদিন-ই তখন সেই স্টুডিওর অন্য একটি অংশে শাহিদ শুটিং করছেন ‘তেরি মেরি কহানি’-র। এদিকে আমার শাহিদ-প্রীতির কথা শুনে ততক্ষণে মেক ইউনিটের কমবেশি সবাই জ্বালাচ্ছেন। গানটির কোরিওগ্রাফি করছিলেন বাবা যাদব। তিনি আবার মুম্বইয়ের লোক। বহুদিন সেই ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করেছেন। তো একজন মডেলকে দিয়ে আমাকে ফোন করিয়েছিলেন। বলেছিলেন ফোনের অন্য দিকে শাহিদ রয়েছেন! সেই প্র্যাঙ্ক কল পেয়ে আমিও বোকা হয়ে গিয়েছিলাম। কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসব চলছিল। যাই হোক, একজন মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন আমাদের, যিনি শাহিদের সঙ্গে আগে কাজ করেছেন একাধিকবার। তিনি গোটা বিষয়টি জানার পর শাহিদের কাছে গিয়ে বলেন তাঁর প্রতি আমার অনুরাগের কথা। আর তারপর যা হল...আমি সত্যিই ভাবতে পারিনি! শাহিদের টিমের তরফে আমাকে জানানো হল, শাহিদ নিজে আমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমি তো হাঁ!” 

 


“যাই হোক, শুটিং শেষে শাহিদ আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি গেলাম। সঙ্গে আমার মা-ও ছিলেন। ক্রাশ-কে প্রথমবার সামনে দেখে তখন আমি আর নিজের মধ্যে নেই। ওই অনুভূতি শব্দে ব্যাখ্যা করা যাবে না। খুব সুন্দর ব্যবহার। আর হাসিটা তেমনই মিষ্টি। হাই-হ্যালোর পর্ব মিটতে শাহিদকে বললাম ওঁর প্রতি আমার জমিয়ে রাখা সব অনুভূতি। যতটা সম্ভব আর কী... তারপর শাহিদের সঙ্গে ছবি তুললাম। আমার মা-ই তুলে দিয়েছিলেন সেই ছবিটা।” বলতে বলতে হেসে ফেললেন গজ দাঁতের সেই বিখ্যাত হাসি।   

 


এরপর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু বছর। শাহিদ কিন্তু তাঁর অনুরাগিণীকে ভুলে যাননি। তাই তো বছর পাঁচেক আগে শাহিদের জন্মদিনে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন শ্রাবন্তী। শাহিদের একটি ছবি পোস্ট করে তাঁকে ট্যাগ করে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা আমার চিরকালের ক্রাশ। অনেক ভালবাসা।’ দেখামাত্রই নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে শাহিদও পাল্টা লিখেছিলেন, ‘ধন্যবাদ’। তার সঙ্গেই জুড়ে দিয়েছিলেন একটি ভালবাসার ইমোজি।  প্রিয় নায়কের থেকে উত্তর পেয়ে স্বভাবতই নিজের আনন্দ ধরে রাখতে পারেননি শ্রাবন্তী। অভিনেত্রীর সঙ্গে কথার ফাঁকে জানা গেল শাহিদের বেশিরভাগ ছবিই রয়েছে তাঁর পছন্দের তালিকায়। কিন্তু শাহিদ অভিনীত ‘হায়দর’, ‘জব উই মেট’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’ তাঁর বিশেষ পছন্দের। 

 

 

কথাশেষে ক্রাশকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানাতে ভোলেননি শ্রাবন্তী – “নতুন করে আর কিচ্ছু চাওয়ার নেই ওর জন্য। খুব ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক, আনন্দে থাকুক শাহিদ। আর আমাদের মন ভাল করা সব ছবি উপহার দিতে থাকুক।”

 

&t=313s