সৌমিতৃষা কুণ্ডু। ছোটপর্দার মিঠাই। ধারাবিহকের সফর শেষ করে পরিধি বিস্তার করেছেন বড় পর্দা, ওটিটি-তে। কখনও দেবের বিপরীতে মিষ্টি হাসির নায়িকা, কখনও আবার থ্রিলার সিরিজে রহস্যে মোড়া মুখ্য চরিত্র। অভিনেত্রী হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। কিন্তু প্রশংসা যেমন এসেছে, তেমনই পিছু ছাড়েনি কটাক্ষ। অনুরাগীর সংখ্যা প্রচুর। তবে নিন্দকেরও অভাব নেই। তিনি জীবনকে বরাবরই দেখেন ইতিবাচক চোখে। তবে প্রশ্ন একটাই, নেতিবাচকতার মুখোমুখি হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নেন?

আজকাল ডট ইন-কে সৌমিতৃষা বলেন, “আমি শুধু পজিটিভ মানুষদের দেখি। যাঁরা শুধু ইতিবাচক দিকগুলি দেখে। আমি দেখি কারা কারা আমাকে ভালবাসা দিচ্ছে। ভালবাসার পরিমাণটা যখন এত বেশি, প্রশংসা পাওয়ার স্কেলটা যখন এত বেশি, তখন ওই কয়েকটা খারাপ কথার দিকে চোখে পড়ে না। কেউ যখন জন্মদিনে অনেক ভাল ভাল উপহার পাও, তখন আর খারাপ উপহারটার দিকে তাকাতে ইচ্ছা করে না।”

জীবনের ওঠাপড়া নিয়েও অকপট সৌমিতৃষা। এক সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ করতে পারেননি দীর্ঘদিন। তিনি বলেন, “হাতে কাজ নেই, এমন কখনও আমার সঙ্গে কখনও হয়নি। তাই মানুষ সেই অবস্থার সঙ্গে কী ভাবে লড়াই করে আমি জানি না। তবে একটা বছর দেখেছি, যেই সময় আমি কাজ করতে চেয়েও কাজ করতে পারিনি। সেই সময়টা আমার শারীরিক সমস্যার জন্য কিছু করা হয়নি। কাজ কেন, বাড়ি থেকেও বেরতে পারিনি। তখন নিজের ভাল দিকটা নিজে খুঁজে নিয়েছি। ভেবেছি বাড়ি থেকেই কী ভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যেতে পারব। কী করে আমি নিজে ভাল থাকতে পারব। বেকিং করছিলাম, ভিডিও বানাচ্ছিলাম। আমি সব সময় পজিটিভ দিকটা দেখি।”

সৌমিতৃষার দৃঢ় বিশ্বাস, শারীরিক কোনও অসুস্থতার কারণে যদি কোনও দিন অভিনয় থেকে সরে দাঁড়াতেও হয়, তবু তাঁর দর্শকেরা প্রতিটি পরিস্থিতিতেই তাঁর পাশে থাকবেন।

ধারাবাহিকে ফেরা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সৌমিতৃষা। তিনি স্বীকার করে নেন তাঁর জনপ্রিয়তা, বর্তমানে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশনের বিরাট বড় অবদান রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি তো টিভি থেকেই পরিচিতি পেয়েছি। আজকে যে আমায় অয়ন স্যার বা এসভিএফ কাস্ট করেছে, আমার কোন অভিনয়গুলো দেখে কাস্ট করেছে? যদি বলো আমার সিনেমা দেখে নিয়েছে, সিনেমার আগে তো আমি মিঠাই করেছি। সিনেমা কোনটা দেখে কাস্ট করেছে? মিঠাই দেখে। টিভি থেকেই আমি জনপ্রিয়তা পেয়েছি। ফলে সেটা তো আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থেকেই যাবে।”