আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালী দিয়ে বহু পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের আমদানি কমে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বহু জাহাজ সেখানে আটকে থাকার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গৃহস্থের রান্নাঘরে। বন্ধের মুখে শহরের একাধিক রেস্তোরাঁ। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে চলবে আগামী দিন? আজকাল ডট ইন জানাচ্ছে কলকাতার প্রসিদ্ধ রেস্তরাঁর হালচাল।

'ভূতের রাজা দিল বর', 'বাবুর্চি', 'পোস্ত' ও অন্যান্য আরও অনেক মাল্টি কুইজিনের কর্ণধার রাজীব পালের কথায়,  "আমাদের একটা ক্যাফে, ভুতের রাজা দিল বর-এর একটা আউটলেট ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা আজ জানি না কাল কী হবে? আজ সকালেও গাড়ি নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়েছিলাম, যদি গ্যাস পাই সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে আসব বলে। কিন্তু সেটাও হয়নি। ইন্ডাকশনে রান্নার ব্যবস্থা করছি, কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। কাঠ,কয়লায় রান্নার ব্যবস্থা করব বলে ভাবছি দেখি কী হয়। খুব খারাপ পরিস্থিতি কলকাতায়। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন সমস্ত রেস্তোরাঁর ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে।"

'চাউম্যান', 'ওউধ ১৫৯০', 'চ্যাপ্টার ২, 'চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি'র অন্যতম কর্ণধার শিলাদিত্য চৌধুরী বলেন, "বাঙালি রান্নায় ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করলে হয় না। তাই খুব ক্ষতি হচ্ছে ওউধ, চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির। এখন সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেনুতেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিকেল তিনটে থেকে ছটা পর্যন্ত একটা রেস্টিং টাইম নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি তো দেশের নয়, যুদ্ধ না থামলে তো কিছুই হবে না। দেখা যাক কতদিন এভাবে চালাতে পারি।"

'ওহ ক্যালকাটা'র ডিরেক্টর দেবাশিস ঘোষ বলেন, "অফার বন্ধ করতে হয়েছে আমাদের। বুফে সিস্টেমও বন্ধ রাখতে হয়েছে। মুম্বই থেকে ইন্ডাকশনের ব্যবস্থা করেছি। যতদিন এভাবে পারব করে যাব, যেদিন আর পারব না বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হবে। কাঠ, কয়লায় রান্না করাটা তো এখন সম্ভব নয়, কী আর করব!"

অন্যদিকে, 'কষে কষা'র মেনুতেও এখন পরিবর্তন এসেছে‌। রেস্তোরাঁ চালানোর জন্য যতটুকু না হলেই নয়, ততটুকুই পদ থাকছে মেনুতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতি দিয়ে এই খবর জানিয়েছেন রেস্তোরাঁ কতৃপক্ষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে রেস্তোরাঁগুলোর এই হাল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন 'হ্যাংলাটেরিয়াম'-এর অন্যতম কর্ণধার সুনন্দ ব্যানার্জিও।