গায়ক সোনু নিগমের জীবনে ঘটে যাওয়া এক হাড়হিম করা ঘটনা সমাজমাধ্যমে ফের ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৪ সালের করাচি কনসার্টের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজ ফের নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। ২০ বছর আগের সেই ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুটে উঠেছে সন্ত্রাসবাদের বিভীষিকা এবং মানবিকতার এক অনন্য নিদর্শন।
২০০৪ সালে গায়কের কনসার্টে বিস্ফোরণের জেরে চারদিকে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। সোনু নিগম এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত 'ভীতিকর অভিজ্ঞতা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এও জানান যে, তিনি সুরক্ষিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানটি থামাননি, গান গেয়েছিলেন।
তাঁর কথায়, আয়োজক এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতার কারণেই তিনি নিরাপদে মঞ্চে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমার ওপর হামলা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেদিন একজন পাকিস্তানিই আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন।” সোনুর মতে, শিল্পী হিসেবে তিনি সবসময় ভালবাসার ভাষা প্রচার করতে চেয়েছেন, কিন্তু রাজনীতির শিকার হয়ে বহুবার তাঁকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সেই পুরনো ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের ঠিক আগের মুহূর্তে মঞ্চে গাইছেন সোনু। চারিদিকে দর্শকদের উন্মাদনা। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বিস্ফোরণ ঘটে। চারিদিকে কান্নার রোল আর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় সব। সেই মুহূর্তে এক পাকিস্তানি ব্যক্তি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সোনুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। সোনুর কথায়, “সেদিন যদি সেই মানুষটি এগিয়ে না আসতেন, তবে হয়তো আজকের দিনটা আমি দেখতে পেতাম না।”
২০০৪ সালের সেই কনসার্টটি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক বিরল ও ইতিবাচক অধ্যায়ে। কার্গিল যুদ্ধ এবং ২০০১-০২ সালের সীমান্ত উত্তেজনার দীর্ঘস্থায়ী তিক্ততা কাটিয়ে তখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগতে শুরু করেছে। সম্পর্কের সেই বরফ গলার সময়েই কনসার্ট বা শিল্পীদের যাতায়াতের মতো সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথগুলো আবার ধীরে ধীরে প্রশস্ত হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সোনু নিগম তাঁর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছিলেন এবং 'তুমসে মিলকে দিল কা হ্যায় জো হাল'-এর মতো তাঁর কালজয়ী গানগুলো দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে শ্রোতাদের মনে একইভাবে জায়গা করে নিয়েছিল।














