অভিনেত্রী তথা সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত এবং পাঞ্জাবি গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জের মধ্যে পুরনো দ্বন্দ্ব এবার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বক্স অফিসে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় এক্স হ্যান্ডেলে তাঁদের মধ্যে যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা আজও ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম আলোচিত বিষয়। কয়েক বছর পর, এবার বক্স অফিসে মুখোমুখি টক্কর হতে চলেছে এই দুই তারকার। কঙ্গনার আগামী ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ এবং দিলজিতের ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ একই সময়ে মুক্তি পেতে চলেছে।

কঙ্গনা রানাওয়াতের ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ ছবিটি ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার সময় কামা হাসপাতালের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যার পরিচালনা করেছেন মনোজ তাপাডিয়া। অন্যদিকে, দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ ছবিতে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, বেদান্ত রায়না এবং শর্বরী ওয়াঘের মতো তারকারা। দুটি ছবির বিষয়বস্তু ও ঘরানা সম্পূর্ণ আলাদা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দর্শক ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুটি ছবির কোনওটিই অগ্রিম বুকিং বা তারকা খ্যাতির জোরে শুরুর দিনেই বিশাল ব্যবসা করতে পারবে না। ছবি দুটির সাফল্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং ‘মাউথ পাবলিসিটি’ বা মুখের কথার ওপর। বুকমাইশো প্ল্যাটফর্মেও ছবি দুটিকে নিয়ে মুক্তির আগে খুব বেশি উন্মাদনা বা ট্রেন্ডিং দেখা যায়নি। তবে সিনেমা হল মালিক ও ট্রেড অ্যানালিস্টদের আশা, ভিন্ন স্বাদের হওয়ার কারণে দুটি ছবিই বক্স অফিসে সহাবস্থান করতে পারবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক সংখ্যা বাড়বে। এবার একই সময়ে মনোজ বাজপেয়ীর ‘গভর্নর’ ছবিটিও মুক্তি পাচ্ছে, যা ১৯৯০ সালের ভারতের অর্থনৈতিক সংকটের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।

এর আগে কঙ্গনার ‘ইমার্জেন্সি’ বক্স অফিসে ভাল ফল করতে পারেনি। ২০১৫ সালের ‘তনু ওয়েডস মনু রিটার্নস’-এর পর আপাতত বিজেপি সাংসদ বড় কোনও হিট ছবির খোঁজে রয়েছেন। বিপরীতে, দিলজিৎ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভাল ফর্মে আছেন; তাঁর ‘বর্ডার ২’ এবং ‘ক্রু’ ছবি দুটি বক্স অফিসে বেশ ভাল ব্যবসা করে।

কঙ্গনা ও দিলজিতের এই লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২০ সালে, যখন কৃষক আন্দোলনের সময় কঙ্গনা ভুলবশত এক বৃদ্ধাকে শাহীন বাগের বিলকিস বানো বলে দাবি করেন। দিলজিৎ ওর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রমাণসহ দেখান যে ওই বৃদ্ধা আসলে ৭৩ বছর বয়সী পাঞ্জাবি কৃষক মহিন্দর কৌর। এরপরেই কঙ্গনা তাঁকে ‘করণ জোহরের চামচা’ বলে আক্রমণ করেন এবং দিলজিৎ কঙ্গনার ভদ্রতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ার সেই তিক্ত লড়াই এবার কোন দিকে মোড় নেয় এবং বক্স অফিসের যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হন, সেটাই এখন দেখার।